বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের দপ্তর - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯৬০).pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

আর কি শুনিব না? শুনিব, কিন্তু নানা বাদ্য-ধ্বনিসম্মিলিত, বহুকণ্ঠ প্রসূত সেই পূর্বশ্রুত সংসারগীত আর শুনিব না। সে গায়কেরা আর নাই—সে বয়স নাই, সে আশা নাই, কিন্তু তৎপরিবর্তে যাহা শুনিতেছি, তাহা অধিকতর প্রীতিকর। অনন্যসহায় একমাত্র গীতিধ্বনিতে কর্ণ-বিবর পরিপুরিত হইতেছে। প্রীতি সংসারে সর্বব্যাপিনী—ঈশ্বরই প্রীতি। প্রীতিই আমার কর্ণে এক্ষণকার সংসার-সঙ্গীত। অনন্তকাল সেই মহাসঙ্গীতের সহিত মনুষ্যহৃদয়তন্ত্রী বাজিতে থাকুক। মনুষ্যজাতির উপর যদি আমার প্রীতি থাকে তবে আমি অন্য সুখ চাই না।

শ্রীকমলাকান্ত চক্রবর্তী

দ্বিতীয় সংখ্যা

মনুষ্য-ফল

 আফিমের একটু বেশী মাত্রা চড়াইলে, আমার বোধ হয়, মনুষ্য সকল ফলবিশেষ—মায়াবৃত্তে সংসারবৃক্ষে ঝুলিয়া রহিয়াছে, পাকিলেই পড়িয়া যাইবে। সকলগুলি পাকিতে পায় না—কতক অকালে ঝড়ে পড়িয়া বায়, কোনটি পোকায় খায়, কোনটিকে পাখীতে ঠোকরায়, কোনটি শুকাইয়া ঝরিয়া পড়ে। কোনটি সুপক হইয়া আহরিত হইলে গঙ্গাজলে ধৌত হইয়া দেবসেবায় বা ব্রাহ্মণভোজনে লাগে—তাহাদিগেরই ফলজন্ম বা মনুষ্যজনম সার্থক। কোনটি সুপক হইয়া বৃক্ষ হইতে খসিয়া পড়িয়া থাকে, শৃগালে খায়। তাহাদিগের মনুষ্যজন্ম বা ফলজন্ম বৃথা। কতকগুলি তিক্ত, কটু বা কষায়,— কিন্তু তাহাতে অমূল্য ঔষধ প্রস্তুত হয়। কতকগুলি বিষময় —যে খায়, সেই মরে। আর কতকগুলি কালজাতীয়- কেবল দেখিতে সুন্দর।

 কখন কখন ঝিমাইতে ঝিমাইতে দেখিতে পাই যে পৃথক পৃথক সম্প্রদায়ের মনুষ্য পৃথকজাতীয় ফল। আমাদের দেশে এক্ষণকার