কমলাকান্তের পত্র
হিমালয়-গৃহ থেকে যে মা নেমে তোমার বাড়ীতে আসবেন, তিনি ত বিদেশিনী বলেই পরিগৃহীতা হবেন—এই দেশে প্রবেশাধিকার লাভ কর্ত্তে হলে তাঁর একটা ছাড়-পত্র চাই; তারপর তিনি সাঙ্গোপাঙ্গ সঙ্গে করে’ আসবেন, ২০ জনের অধিক হলেই ত আইনের খেলাপ হয়ে যাবে। তার উপর আবার তিনি দশপ্রহরণ দশহাতে ধারণ করে’ আসবেন, অস্ত্র আইনের মধ্যেও পড়তে পারেন, এ সকল জটিল কথার মীমাংসা করবার জন্য একবার উকিলের বাড়ী যেতেই হবে।
প্রসন্ন। তুমি আফিঙের দর সস্তা দেখে এ দেশে এসে বাস কল্লে, আমি ত তোমায় বৃদ্ধ বয়সে ছেড়ে কোথায় গেলাম না, শেষে এমন দেশে এলে যে পূজা করতে গেলে উকিল বাড়ী যেতে হ’বে!
আমি। তা প্রসন্ন সব সুবিধা কি এক সঙ্গে পাওয়া যায়, তবে মন্দের ভাল এই, এখানকার আইনগুলা প্রায়ই ঘুমিয়ে থাকে, মাঝে মাঝে এক-একটা প্রবল হয়ে জেগে ওঠে, কোন্টা কোন্দিন জেগে উঠবে তা বলা যায় না, তাই আগে থেকেই সাবধান হওয়া ভাল।
প্রসন্ন। এই সব অদ্ভুত আইনের দরকার কি?
আমি। দেখ প্রসন্ন অনধিকার চর্চ্চা কর না, তুমি আদার ব্যাপারী জাহাজের কি খবর রাখ? তার উপর তুমি গয়লার মেয়ে, দুধের ব্যবসাই বোঝ, রাজ্য পরিচালনার কথা কি জান?— এ যে-রাজার দেশ সে-রাজার রাজ্যে নাকি জনতা থেকেই ঘোর বিপ্লব হয়েছিল, সে আজ প্রায় দু’শ বছরের উপর, কিন্তু তা’তে কি এল গেল—এদের সেই দু’শ বছর আগে যে ঘর পুড়েছিল—এরা এখনও তাই সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়। কোন রকম জটলা হলেই এঁরা আঁৎকে উঠেন—তা সেটা
৪