বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১০৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কমলাকান্তের পত্র

গন্তব্যস্থান, পথের শেষ, goal হ’তে পারে না। কাছে ও দূরে, অন্তরে বাহিরে, আমি কোথাও মাঝামাঝি ব্যবস্থা চূড়ান্ত ব্যবস্থা বলে’ দেখতে পেলুম না। প্রসন্ন খাঁটি দুধের সঙ্গে পবিত্র গঙ্গোদক মিশ্রিত করে’ যে মাঝামাঝি পদার্থ সৃষ্টি করে, তা’তে দুগ্ধ এবং গঙ্গোদক উভয়েরই মাহাত্ম্য নষ্ট হ’য়ে যায়; golden mean বলে’ প্রসন্নকে কেউ মার্জ্জনা করে না, মুখে কা’রও বলতে সাহস হ’ক আর নাই হ’ক। সাদায়-কালায় মিশিয়ে যে চুনোগলি, এণ্টালি প্রভৃতির সৃষ্টি, সে-সকল মাঝামাঝি জীবের গুণাগুণ যা’রা জানে তারা বলে—give me a true-born Englishman or an unadulterated native but not one who is neither fish nor flesh nor a good red herring, অশ্বতর golden mean হ’লেও প্রকৃতির ত্যজ্যপুত্র।

 জল ও স্থলের মাঝামাঝি যে জিনিষ তা’র নাম কর্দ্দম; জলে সাঁতার কাটা চলে, স্থলে দৌড়ান যায়; কিন্তু হাতিও ‘দঁকে পড়লে’ কাবু হ’য়ে যায়—এমন কি ব্যাংএও লাথি মেরে যেতে পারে।

 সত্যি ও মিথ্যা ছেলেবেলা মনে করতুম চিন্তারাজ্যকে dichotomy করে’ ভাগ করেছে। কিন্তু “ক্রমশো বিজ্ঞতমঃ” হ’য়ে বুঝলুম যে, সত্য ও মিথ্যার মাঝামাঝি একটা খুব প্রশস্ত ক্ষেত্র আছে, সেখানে সত্যের শুভ্রতা বিনয়ের কলপ দিয়ে মলিন করা হয়েচে, এবং মিথ্যার মালিন্যকে সততার চূণকাম করে’ বেশ ধবলতা দেওয়া হয়েচে; এই সত্য-মিথ্যার মাঝামাঝি ক্ষেত্রে যে খেলোয়াড় জয়যুক্ত হ’তে পারে সে কুরুক্ষেত্র বা ওয়াটারলু জয়ী অপেক্ষা দুর্দ্ধর্ষ।

১০২