বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১১৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৯

বলা ও করা

আজন্ম শুনে আসচি যে “বলা সহজ, করা শক্ত”। প্রবচন মাত্রেই যেমন আধা-সত্য এটাও তাই। কিন্তু সত্যের চেয়ে আধা-সত্য মারাত্মক হ’লেও যেমন চলতি বেশী, এ আধা-সত্যটারও চলন লোকের মুখে মুখে। সত্যের একটা পরীক্ষা (সেটা চূড়ান্ত পরীক্ষা না হ’লেও) লোকের মুখেই হ’য়ে থাকে—দাদা কি বলেন, গুরুজী কি বলেন, অমুক মহামহোপাধ্যায় কি বলেন, অমুক ন্যায়পঞ্চানন কি বলেন, শেষ মনু কি বলেন, যাজ্ঞবল্ক্য কি বলেন—যে হেতু জ্যান্তর চেয়ে মরার কথার বেশী জোর—আর মুখের যুক্তি অপেক্ষা লিখিত তথা ছাপিত যুক্তির জোর নিশ্চয়ই বেশী। ফরাসীতে বলে—parole s’en vole, ecrit reste—কথা হওয়ায় উড়ে যায়, লেখা থাকে। লেখা তথা ছাপার যেমন একটা গুণ স্থায়িত্ব, তেমনি একটা দোষ উড়ে না যাওয়া। যে কথাটা শূন্যগর্ভ বলে’ একদিনে হাওয়ায় উড়ে যেত, সেটা ছাপা হ’লে অন্ততঃ এক বছর বেঁচে থাকবে; আর যদি কোন স্থানে চাপা পড়ে থেকে, উই আর ইঁদুরের হাত থেকে কোন রকমে বেঁচে গিয়ে, দু’শ বৎসর পরে তা’র resurrec-

১০৯