কমলাকান্তের পত্র
না, কথা দিয়েও নয়, কাজ করেও নয়। নীরব সাধনার অনেক সময় গূঢ় তত্ত্বই এই।
কথায় বলে the less said the sooner mended, তা’র মানে, কথার ছাপ মুছে না, সে ছাপ যত গভীর হ’য়ে বসে, তা’কে মুছে ফেলা তত শক্ত; অতএব, যা কর তা কর, কথা কয়ে কার্য্যের প্রকৃতি বা উদ্দেশ্যটাকে প্রকট করে’ দিও না, যদি কোন সময়ে বিপরীত মত জাহির করতে হয়—তা ঘটে উঠবে না। কাজের প্রকৃতি মল্লিনাথের টীকায় বদলে যেতে পারে, কিন্তু কথার অর্থ খুব বেশী বদলান যায় না। এ দুনিয়ায় অনেক সময় কতবার পা পিছলে পড়ে যেতে হয়, কিন্তু কোন কথা না বলে’ ঝেড়ে উঠে পড়তে পারলে, পড়ে যাওয়াটার নানা interpretation দেওয়া যেতে পারে; কিন্তু হুঁচট্ খেয়েছি বলে আর ‘শয়নে পদ্মলাভ’ বলা চলবে না। অতএব Thou shalt not speak out এইটা দুনিয়াদারীর একাদশ Commandment হওয়া উচিত।
সে দিন বাঙ্গালার একজন বিরাটপুরুষ একখানা অগ্নিগর্ভ পত্র লিখে তাঁর উপরওয়ালাকে জানিয়ে দিলেন যে, সব হুকুম বা সকল আবদার, সব মানুষের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। পত্রখানার ভাষা নিয়ে ও ভঙ্গী নিয়ে কতই না আলোচনা গবেষণা হ’য়ে গেছে। যাঁরা পত্রখানার ধরণটা পছন্দ করেন নি, তাঁরা যদি তাঁদের মনোমত একখানা খসড়া করে’ ছাপিয়ে দিতেন তা হ’লে ঠিক বুঝা যেত, তাঁদের কিরূপ রুচি ও শক্তি, তাঁদের টিপ্পনী থেকে ঠিক বোঝা গেল না যে, কি হ’লে তাঁরা সন্তুষ্ট হতেন। কিন্তু ধরণটা যা’ই হ’ক, পত্র
১১২