বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১২১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

২০

মা ভৈঃ

চারিদিকে সাড়া পড়ে’ গেছে, “নারী জেগেছে”, ভারত উদ্ধারের আর বেশী দেরী নেই; আমি কিন্তু দেখছি, “নারী রেগেছে”, তা’র সঙ্গে ভারত উদ্ধারের কোন সম্বন্ধই নেই। কেউ কেউ বলবেন—রেগেই যদি থাকেন—ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে মানুষ ত রাগতে পারে না, অতএব আদৌ জেগেছেন, পশ্চাৎ রেগেছেন, এমন ত হ’তে পারে? হাঁ তা পারে; কিন্তু অনুগ্রহ করে’ যদি নিদ্রাই ভঙ্গ হ’য়ে থাকে, ত রেগে কি লাভ?

 সতী একবার রেগেছিলেন—আশুতোষের অনুনয় উপেক্ষা করে’, দশমহাবিদ্যার বিভীষিকা দেখিয়ে তাঁকে উদ্ভ্রান্ত করে’, পিতৃগৃহে অনাহুত হ’য়ে ছুটে গিয়েছিলেন—ফল হয়েছিল পিতার অজমুণ্ড, যজ্ঞপণ্ড, পরে আপনার দেহপাত। তারপর প্রেমময় পাগল স্বামীর স্কন্ধে ঘুর্ণায়মান শবদেহ দিক দিগন্তে ছড়িয়ে চতুঃষষ্টি পীঠস্থানের সৃষ্টি; কিন্তু ধ্বংসলীলার সেইখানেই অবসান হয় নি—প্রত্যাখ্যাত স্বামীর সহিত পুনর্মিলনের আকাঙ্খায় গিরিরাজ-গৃহে পুনরায় জন্ম পরিগ্রহ, এবং পরিত্যাগের পর পুনর্মিলন হ’য়ে তবে সে নাটকের পরিসমাপ্তি হয়েছিল। তবে তফাৎ এই, সব স্বামী ভাঙ্গড়ভোলা নয়, এমন

১১৫