কমলাকান্তের পত্র
মত যুগ্ম রাজার রাজ্য হবে, না এক রাজার রাজা হবে? দুইএ এক না হ’য়ে গিয়ে, দুইজন (স্ত্রী ও পুরুষ) “স্বতন্ত্র উন্নত” হ’য়ে গৃহস্থলীকে যদি Democratic নীতি অনুসারে শাসন করতে চান, তা হ’লে রাজ্য ছেড়ে বনে গিয়েই বেশী সুখশান্তি লাভের আশা করা যায়। কার্য্যক্ষেত্রে কিন্তু দেখা যায়, যে অধিকাংশ স্থলে একের প্রাধান্যই বলবান হ’য়ে ওঠে—তা সেটা স্ত্রীরই হ’ক, বা পুরুষেরই হ’ক, অথবা স্ত্রী পুরুষ দুইএ মিশে এক হয়েই হ’ক; কিন্তু যেখানে Dual sovereignty সেইখানেই বিরোধ ও পরে বিচ্ছেদ। মা সকলের এটাও দেখা উচিত যে ঘরের বাইরে এই পরাধীন দেশে, পুরুষ বেচারী যে স্বাধীনতা উপভোগ করে, তা’র চেয়ে কিছু কম স্বাধীনতা স্ত্রীগণ অন্তঃপুর মধ্যে উপভোগ করেন না।
তবে মা সকলের পুরুষের উপর বড় বেশী আক্রোশ এইজন্য যে, পুরুষ ব্যাভিচারী হ’লে তার সাতখুন মাপ, কিন্তু রমণীর ক্ষণিক দুর্ব্বলতার জন্য একটু পদস্খলন হলেই, সে বেচারী চিরদিনের জন্য দাগী হ’য়ে গেল, তা’র এতটুকু অপরাধেরও মার্জ্জনা নেই। মা সকলের এ কথাটা একটু খোলসা করে’ বুঝতে চাই। পুরুষের পক্ষে আইনটাকে খুব কড়া করে’ দেওয়া যদি তাঁদের অভিপ্রায় হয়, তা’তে আমার আপত্তি নেই, আমি বরং তা’র খুব পরিপোষণ করি। কিন্তু পুরুষের বেলা আইনটা যেমন আল্গা, নারীর বেলাও, সমানাধিকরণের নিয়মে, তেমনি আল্গা কেন হবে না—মা সকলের যদি এই অভিপ্রায় হয়, তা হ’লে নারী রেগেছে বলব না ত কি? আর রাগের সঙ্গেই বুদ্ধিনাশ, আর তারপর—বিনাশ।
১১৮