বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১২৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

মা ভৈঃ

 সাম্যবাদী বা বাদিনীরা যাই বলুন আর যাই করুন, ব্যাভিচারের যদি পারিবারিক পরিণাম কল্পনা করে’ দেখা যায়, তা হ’লে সে পরিণামকে কিছুতেই সমান বলা যায় না। Nothing will equalise the offence, however you equalise the penalty. For nothing can equalise its “consequences” or the degree of wrong that may be done by one to the other.

 স্ত্রীগণের স্বাধীনতা লাভের উপায় হিসাবে বলা হয়েছে যে, তাঁরা নিজের নিজের পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে শিখুন, অর্থাৎ নিজে নিজে উপায়ক্ষম হ’ন, এবং তদনুযায়ী বিদ্যা বা শিল্প শিক্ষা করুন। কমলাকান্তের গৃহ শূন্য—সে হাত পুড়িয়ে রেঁধেই খেয়ে থাকে, তবুও আমার পুরুষ ভ্রাতাগণের পক্ষ হ’তে এইমাত্র বলবার আছে যে, এই দারুণ আক্রাগণ্ডার দিনেও, পুরুষ একক কষ্ট করে’ও, কোনদিন এ পর্য্যন্ত তা’র গৃহিণীকে বলে’ নি—“আর পারি না, তুমি তোমার পেটের অন্ন গতর খাটিয়ে সংস্থান করে নাও।” পুরুষের দুঃখে দুঃখিত হ’য়ে যদি নারী গতর খাটাতে চায় ত সেটা ভালই বলতে হ’বে; কিন্তু যদি ঐটে অছিলে মাত্র করে’ নিজের স্বাতন্ত্র্যলাভের পথ পরিষ্কার করে’ নিতে থাকে, তা হ’লে পুরুষ বেচারীর কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দেওয়া হবে।

 তারপর মা সকল একবার ভেবে নেবেন যে, একবার গতর খাটাতে বেরিয়ে পড়লে, আর স্ত্রী-শিল্প আর পুরুষ-শিল্প বলে’ কোন পার্থক্য থাকবে না। ব্যাঙ্কের দাওয়ান থেকে আরম্ভ করে’ কোদাল-

১১৯