কমলাকান্তের পত্র
ধাঁধা লাগতে লাগল, স্বাধীন হ’লে এর বেশী প্রসন্ন আরও কি হ’তে পারত? লড়াইএ যেত—না বক্তৃতা করত?
প্রসন্ন। হাতে পায়ে বেড়ির মধ্যে ত তুমি। বুড়ো ব্রাহ্মণ কোন যোগ্যতা নেই—নিজের ভালমন্দ জ্ঞান নেই—যেন কচি ছেলে—যেন পাগল—তুমিই ত আমার বুড়া বয়সের সব চেয়ে বড় বাঁধন—তা ছাড়া আমার মঙ্গলা আর-একটা বাঁধন, বাঁধনের মধ্যে ত এই দুই।
আমি। গো-ব্রাহ্মণ-হিতায় চ—প্রসন্ন ঠিক শাস্ত্রসম্মত হিন্দুজীবনই ত যাপন কচ্ছ। প্রসন্ন, তোমার আর পুনর্জন্ম হবে না, তুমি তরে’ গেলে—তুমি স্বাধীন হও আর না-হও, তা’তে কিছু এসে যাবে না। কিন্তু বয়সকালে তুমি ত ছাড়া গরুটির মত ছিলে না—তখন ত গোঁজেবাঁধা-গরুর মত সাধু ঘোষের গোয়ালে বাঁধা থাকতে।
প্রসন্ন। যখন যেমন তখন তেমন করতে হবে ত! না হ’লে, সংসার চলবে কেন?
আমি বড় বিস্মিত হলুম; প্রসন্নর দিক দিয়ে স্বাধীনতার আবদার একবারও এল না; আমি “যার বিয়ে তার মনে নেই, পাড়া পড়শীর ঘুম নেই” হিসাবে জাগিয়ে তুল্তে গিয়েও কৃতকার্য্য হলুম না। হায় রে বাঙ্গালীর নারী!
প্রসন্ন। রাখ তোমার স্বাধীনতার বাজে কথা; দুটো মহাভারতের কথা বল। আমার এ বেলা কোন কাজ নেই।
মহাভারতের কথা অমৃত সমান, কোন কাজ না থাকলে সে আমার মুখে শুনতে আসত; পুণ্যবতী বলেই শুন্ত, কি শুনে
১২২