বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১২৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সৈরিন্ধ্রী

পুণ্যবতী হ’ত, তা ঠিক বলতে পারলুম না। যা হ’ক, স্বাধীনতার কথা ভাবতে ভাবতে সৈরিন্ধ্রীর ইতিহাস মনে পড়ে’ গেছল—সেইখান থেকে গল্পটা আরম্ভ করে দিলুম।

 পঞ্চস্বামী বিরাট রাজার সভায় আত্মগোপন করিয়া অজ্ঞাতবাস করিতেছেন। রূপসম্পন্না অনাথা একবস্ত্রা পাঞ্চালতনয়া দ্রৌপদী আশ্রয় ভিক্ষার্থ সুদেষ্ণার নিকট উপস্থিত হইলে, বিরাট-বধূ তাহার অলৌকিক সৌন্দর্য্য দেখিয়া চকিত হইয়া উঠিয়াছেন, পাছে এই লাবণ্যবতী বিরাটরাজার দৃষ্টিপথে পতিতা হন—তাহা হইলে সর্ব্বনাশ হইতে পারে। জিজ্ঞাসা করিলেন,—“তুমি কি কর্ম্ম করিতে অভিলাষ কর?” দ্রৌপদী বলিলেন―“আমি সৈরিন্ধ্রী পরিচারিকা মাত্র, কেশপাশ বিন্যাস, গন্ধ বিলেপনাদি পেষণ ও মল্লিকা উপল চম্পকাদি পুষ্পপুঞ্জের বিচিত্র পরম শোভান্বিত মাল্যগ্রন্থনে আমার নৈপুণ্য আছে। পূর্ব্বে আমি কৃষ্ণের প্রেয়সী সত্যভামার আরাধনা করিতাম, পরে দ্রৌপদীর পরিচর্য্যা করিয়াছিলাম। আমি উত্তম অশন বসন লাভ করিয়া সর্ব্বত্র বিচরণ করি, এবং যে স্থানে যতদিন তাহা লাভ করি, সেস্থানে ততদিন আমার মন রত থাকে; সেইজন্য আমার নাম মানিনী; আমি আপনার নিকেতনে অবস্থানার্থ সমাগতা হইলাম।”

 সুদেষ্ণা কহিলেন—“হে শুচিস্মিতে, শুভ্রূ, লোকে যেমন আত্মবিনাশের জন্য বৃক্ষে আরোহণ করে, অথবা কর্কটী যেমন আপন মরণ-কারণ গর্ভধারণ করে, তোমাকে রাজগৃহে আশ্রয় দিলে আমার

১২৩