কমলাকান্তের পত্র
পক্ষেও সেইরূপ ঘটিতে পারে।” দ্রৌপদী কহিলেন—“মহাসত্ত্ব পঞ্চ গন্ধর্ব্ব যুবা প্রচ্ছন্ন ভাবে আমাকে সতত রক্ষা করিয়া থাকেন, অতএব কোন ব্যক্তিই আমার প্রতি লুব্ধ হইতে পারিবে না।” সুদেষ্ণা এই বাক্যে আশ্বস্ত হইয়া বলিলেন—“এরূপ হইলে আমি তোমাকে ইচ্ছানুরূপ বাস করাইব—তোমাকে কোন ক্রমেই উচ্ছিষ্ট স্পর্শ বা কাহারও পাদ প্রক্ষালন করিতে হইবে না।”
মহাভারতের কথা অমৃত সমান—কিন্তু নারী সম্বন্ধে এ কথা আমার অমৃত সমান লাগল না; প্রসন্ন শুনছিল, তা’রও লাগল না। নারী কি এত সন্দিগ্ধ—নারীর প্রতি এত অবিশ্বাসিনী যে, রূপবতী ললনার গৃহমধ্যে অবস্থিতি মাত্রে স্বামীর মন বিচলিত হ’য়ে সর্ব্বনাশের সূচনা করতে পারে এমন হীন কল্পনা তা’র মনে উদিত হওয়া সম্ভব? কিন্তু মানবচরিত্র জ্ঞানের বিশাল বারিধিতুল্য—ব্যাসের অগাধ পাণ্ডিত্যে সন্দিহান হ’তেও পারলুম না। প্রসন্ন বল্লে—এটা মেয়ে-মানুষ মেয়ে-মানুষকে বিশ্বাস করে না, তা নয়; মেয়ে-মানুষ পুরুষকে বিশ্বাস করে না, এইমাত্র প্রমাণ হচ্চে। আমার সে কথায় মন উঠল না, কেননা, এ ত আর কলিযুগের কথা নয়; আর প্রসন্নর কথাই যদি সত্যি হয়, ত যুগে যুগে স্ত্রী স্ত্রীই আছে—আর পুরুষ পুরুষই থেকে গেছে; কেননা হাজারই নারী জেগে থাকুন, অজ্ঞাতকুলশীলা রূপবতী ললনা গৃহমধ্যে প্রবেশ কল্লে, স্বামীর প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিপাত ও তৎসঙ্গে অভ্যাগতার প্রতি সন্দেহ, তাঁর হৃদয় আচ্ছন্ন করে’ দেবে! তবে সুদেষ্ণার মত অন্তরের আশঙ্কা স্পষ্ট
১২৪