বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৩১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সৈরিন্ধ্রী

করে’ ব্যক্ত করবার মত বলের হয় ত তাঁর অভাব হ’তে পারে।

 আমি আরও একটু ভেবে দেখলুম—এ প্রকার গূঢ় সন্দেহের দ্বারা নারী যত সহজে নারীর অমর্য্যাদা করে, পুরুষ তত শীঘ্র পারে না; তথা-কথিত শিক্ষা ইত্যাদির দ্বারা বিশেষ তারতম্য হয় না।


 তারপর বিরাটরাজের শ্যালক মহাবল কীচক দেবতার ন্যায় বিচরণ-কারিণী দ্রৌপদীকে হঠাৎ নিরীক্ষণ করিয়া কুসুম-শরে প্রপীড়িত হইয়া, ভগিনী সুদেষ্ণাকে জিজ্ঞাসা করিল—“শুভে! সুজ়াত-মদিরা-তুল্য-মোহকারিণী এই শোভন কামিনী কে?” সুদেষ্ণা ভ্রাতাকে তাহার পরিচয় দিলেন, এবং উভয়ের মিলন সাধন জন্য উপায় উদ্ভাবন করিয়া উপদেশ দিলেন। কৌশলে সৈরিন্ধ্রীকে কীচকের নিকেতনে প্রেরণাভিলাষে বলিলেন—“সৈরিন্ধ্রী, আমি পিপাসায় সাতিশয় ব্যথিতা হইয়াছি, অতএব তুমি শীঘ্র কীচকের গৃহে গমন পূর্ব্বক কিঞ্চিৎ সুরা আনয়ন কর।” সৈরিন্ধ্রী এই আদেশ প্রত্যাহার করিবার জন্য বিরাট-মহিষীকে অনেক অনুনয় বিনয় করিলেন; কিন্তু কোন ফল হইল না; তিনি ক্রন্দন করিতে করিতে শঙ্কাপূর্ণ চিত্তে দৈবের শরণাপন্ন হইয়া কীচকের গৃহে প্রবেশ করিলেন। ‘পার-গমনেচ্ছু ব্যক্তি নৌকালাভ করিলে যেমন আহ্লাদিত হয়’ কীচক সেইরূপ হৃষ্টচিত্তে তাঁহার অভ্যর্থনা করিল।


 এ কি চিত্র? ভ্রাতা, ভগিনী, আশ্রিতা কুলললনা, এ তিনের মধ্যে এ কি বীভৎস ব্যাপার? এ কি ‘যা শত্রু পরে পরে’? স্বীয়

১২৫