কমলাকান্তের পত্র
মত অর্থহীন নিরর্থক জীবন যাপন করে’, “দ্রাক্ষাফল হয় অতিশল্প অম্লরসে পরিপূর্ণ” বলে’ আপনার মনকে প্রবোধ দিয়েছিলেন। যিনি সে ফলের ঝুড়ি নিয়ে বসে’ তা’র রসাস্বাদ করবার সুযোগ পেয়েছেন—তাঁর মুখে দ্রাক্ষাফলের মিষ্টত্ব, স্নিগ্ধত্ব, পুষ্টিকারিত্ব ইত্যাদি গুণেরই ব্যাখ্যা শুনতে পাওয়া গেছে; আর যাঁরা সে রসে বঞ্চিত, অধিকাংশক্ষেত্রে তাঁদেরই মুখে স্তুতির পরিবর্ত্তে নিন্দা উদ্ঘোষিত হয়েচে।
অর্থ অনর্থের মূল, হয়ত এক সময়ে ছিল; যখন দেশে চোরডাকাতের ভয় বেশী ছিল—যখন সুধু ধন নয়, ধনাপবাদেও ডাকাত পড়ত, যখন টাকা থাকলে দেশের রাজার পর্য্যন্ত চক্ষু-পীড়া উপস্থিত হ’ত। অর্থ সম্বন্ধে সে অনিশ্চিততা এখন নেই; এখন অর্থকে অনর্থ বললে চলবে কেন?
আমি ত দেখিচি অর্থ অপেক্ষা চিরস্থায়ী জিনিষ আর নেই। মানুষ যায়, তা’র বিদ্যা বুদ্ধি, তা’র জ্ঞান, তা’র পাণ্ডিত্য, তা’র সঙ্গে লোপ পায় (খানিকটা সে জ্ঞান বা পাণ্ডিত্যের প্রতিচ্ছবি হয়ত ছাপা কাগজে কিছুদিনের জন্য থেকে যায়), কিন্তু তা’র সঞ্চিত অর্থ অমর হ’য়ে যুগ যুগান্তর থাকতে পারে। তার ধর্ম্মপ্রাণতা, তা’র দেহের সঙ্গে ভষ্ম হ’য়ে যায়; কিছুদিন হয়ত তার সুনামের সুরভি বন্ধুজনের হৃদয়-মন সুরভিত করে’ রাখে; কিন্তু তা’র সঞ্চিত পুঞ্জীকৃত অর্থ যদি থাকে, ত সে পুরুষানুক্রমে তা’র স্মৃতিকে জাগিয়ে রাখতে পারে; তা’র পরিশ্রম, অধ্যবসায়, বুদ্ধি, বিচক্ষণতার সমবায়ে যে অর্থ সঞ্চিত হয়েছিল, সেই অর্থ একটা বিরাট potential energyর
১৩০