বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৩৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কামিনী কাঞ্চন

power-house হ’য়ে বেঁচে থাকতে পারে; এবং সে potential energy কোনদিন kinetic energyতে পরিণত হ’য়ে, সঞ্চয়কারীর পরিশ্রম অধ্যবসায় বুদ্ধি বিচক্ষণতার পুনর্জন্ম হ’তে পারে।

 সকলেই জানে এবং আমিও জানি যে, অর্থ অনর্থ হ’য়ে উঠে যখন সে অবস্তুতে বস্তুত্ব আরোপ করে, অপদার্থকে পদার্থত্ব দেয়; সমাজে ও রাষ্ট্র মধ্যে relative ও absolute value উল্টেপাল্টে দেয়। কিন্তু সেটা অর্থের দোষ নয়, জগতের দোষ, অর্থাৎ মানুষের মনের দোষ। আমি দেখিচি যে, অর্থ না থাকলে বন্ধু মিলে না; কবি বলেছেন “কড়ি বিনা বন্ধু কই”। অর্থ থাকলে অনেক অনর্থ সমাজে সম্ভব হয়—ঘটেও; “কড়িতে বুড়ার বিয়া, কড়ি লাগি মরে গিয়া, কড়িতে কুলবতী মজে”—সে সব সত্য। কিন্তু কড়িতে অসম্ভবও সম্ভব হয়—“কড়িতে বাঘের দুগ্ধ মিলে।” আমি আরও দেখিচি যে অর্থের অত্যাচার, অর্থের ব্যভিচার যা কিছু, সঞ্চয়কারীর দ্বারা খুব অল্পই হ’য়ে থাকে। যে বুদ্ধি বিচক্ষণতার দ্বারা অর্থ সঞ্চয় হয়, সেই বুদ্ধিবিচক্ষণতাই তাকে ব্যভিচার হ’তে রক্ষা করে; ব্যভিচার আসে নিম্নতর পর্য্যায়ে, যখন মানুষ “বাবা কি কল করেচে, সই করলেই টাকা” বলে’ চেক বা দাখিলা সই করে’, আর আলাদিনের আশ্চর্য্য প্রদীপের মত ভুতে টাকা এনে দেয়। সঞ্চয়ীর যে গুণ তা’ ব্যভিচারকে দূরে রেখে দেয়। যে সঞ্চয় করে না, সুধু সঞ্চিত বিত্ত ব্যয় করে, তা’র সে বাঁধ থাকে না, সে স্বতই উচ্ছৃঙ্খল হ’য়ে যাবে তা’র আর আশ্চর্য্য কি? পাণ্ডিত্যের বিদ্যাবত্তার দিক দিয়েও ত এই দোষ দেখা যায়। পণ্ডিতের পুত্র মূর্খ, কিন্তু

১৩১