বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৩৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কমলাকান্তের পত্র

বাবার দোহাই দিয়ে তরে’ যাবার চেষ্টা তা’রও হয়, এ ত শত শত রয়েছে। “আমার বাবার টোল ছিল—আমি মূর্খ?” এ আস্ফালন ত অনেক মূর্খের মুখে শুনা যায়; পাণ্ডিত্যের ফল যদি কিছু মাত্রও উত্তরাধিকার সূত্রে পুত্রে অর্শা’ত তা হ’লে, অর্থবানের পুত্রের যে দর্প, সেটা খুব অনন্যসাধারণ হ’ত না।

 আমি কাঞ্চনের স্বপক্ষে এত কথা বলচি তা’র প্রধান কারণ আমার বিশ্বাস আমরা গরীব হয়েছি বলে’ ধনীর প্রতি ও ধনের প্রতি নাসিকা কুঞ্চিত করতে আরম্ভ করেচি। তা’তে কিছুই এসে যেত না, যদি আমাদের প্রতি মুহূর্ত্তে, ধনীর সঙ্গে ও ধনের সঙ্গে সংগ্রাম করতে না হ’ত। আমরা যেমন ন্যাংটা, বাটপাড়ের ভয় রাখি না, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীও যদি ন্যাংটা হ’ত, তা হ’লে Soul-force দিয়ে ভারতউদ্ধার হ’য়ে যেত। কিন্তু অবস্থা তা নয়; আমাদের Soul-force দিয়ে Sole-force বা Kick-forceএর বেগ ধারণ কর্ত্তে হচ্চে। এখানে সুতরাং আমাদের Sole-forceএরই আপাততঃ অধিক দরকার; একথা Soul-forceএর ঋষি পাকেপ্রকারে স্বীকারই করেছেন—এক কোটী টাকা, আর এক লক্ষ স্বেচ্ছাসেবকের ফরমায়েস করে’। এক কোটী টাকা ত Soul-force নয়ই, আর হাত-পা বিশিষ্ট এক লক্ষ স্বেচ্ছাসেবকও নিছক Soulforceএর dynamo নয়।

 যন্ত্রটার এক প্রান্তে Soul-force অপর প্রান্তে Sole-force বা Kick-force—একটাকে পরিচালন জন্য, লক্ষ্য স্থির করে’ প্রয়োগ করবার জন্য, আর-একটার প্রয়োজন—driverএর Soul-force

১৩২