বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৪২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কমলাকান্তের পত্র

এখনও Vaticanএ যত্ন করে’ একটা আধারের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়েচে; বৎসরে একবার সে আধারটা খোলা হয়। কয়েক বৎসর আগে একবার একজন ফটোগ্রাফার সেই পরিচ্ছদটার ফটো নেন; প্লেটখানা develope করে দেখা গেল—সেই পরিচ্ছদের মধ্যে একটা মানুষের মূর্ত্তির স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। হ’তে পারে এটা একটা photographic jugglery, কিন্তু আমার বিশ্বাস মানুষটার দেহের ছাপটা এতদিন তার পরিচ্ছদে লেগে থাক আর নাই থাক, কিন্তু মানুষটার মনের ছাপ তা’র পোষাকে ছিলই ছিল; আর, কতখানি মনের রাজ্য আর কতখানি দেহের রাজ্য তা’ত এখনও সঠিক বলা যাচ্চে না। যাই হ’ক, মানুষ যখন তা’র পোষাকের ভঙ্গীটা বদলে ফেলে, তখন বুঝতে হবে যে তা’র মনও বদলে গেছে, পুরাতন মানুষটা মরে গেছে; এবং সকল মরার পরই যখন বাঁচা আরম্ভ, তখনই সেই মরা-বাঁচার সন্ধিস্থলেই অতর্কিতে সে, সাপের খোলসছাড়ার মত, বাসাংসি জীর্ণানি ত্যাগ করে’ “নবানি” গ্রহণ করতে আরম্ভ করেচে; আর পুরাতন ও নূতন উভয়বিধ পরিচ্ছদেই তা’রই মনের ছাপ থেকে গেছে। অতএব কথাটা উল্টেপাল্টে দুই রকম করে’ই বলা চলে—মরা মানে কাপড় ছাড়া, আর কাপড় ছাড়া মানেই মরা, তথা নূতন জীবনের আরম্ভ ও নূতন পরিচ্ছদ পরিগ্রহ।

 ব্যক্তিগত ভাবে একটা মানুষের পক্ষে এ কথাটা যেমন সত্য, মনুষ্য গোষ্ঠী বা সমাজ অথবা জাতির পক্ষেও তেমনি সত্য। আমরা যুগে যুগে কতবার কত রকমই পোষাক বদলালুম তা’র কি ইয়ত্তা আছে; আবার এক যুগেই কত রকম ভোল ফেরালুম তা’রই বা

১৩৬