বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৪৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কমলাকান্তের পত্র

গালাগাল, যে কেহ তাঁদের বিরোধী—যাহা কিছু তাঁদের বিরোধী—তা’র প্রতি অজস্র গালিবর্ষণই তাঁদের বল। তাঁরা বুঝতে পারচেন না যে, ‘হয়’ আর ‘ভয়ের’ দ্বারা আর রাজত্ব করা চলচে না; দোর্দ্দণ্ড প্রতাপ ইংরাজ রাজের তা চলচে না, তাঁকেও কাউন্সিলের মধ্যে ও কাউন্সিলের বাইরে কৈফিয়ত দিতে হচ্চে, লোকের মত জান্‌তে হচ্চে, বুঝতে হচ্চে, বোঝাতে হচ্চে।

 ঠিক এই পর্য্যন্ত এসে পৌঁছিচি, এমন সময় প্রসন্ন এসে পাশে দাঁড়াল; আমাকে দপ্তর নিয়ে বস্‌তে দেখলে প্রসন্ন বিরক্ত হ’ত, হাজার হ’ক গয়লার মেয়ে, দপ্তরের মাহাত্ম্য সে কি বুঝবে! যাই হ’ক আমি বল্লাম—প্রসন্ন শোন আমি কি লিখলুম—বাসাংসি জীর্ণানি—

 প্রসন্ন। ও আবার কি? ওটা কোন্ দেশের ভাষা?

 আমি। এই দেশেরই ভাষা, দেবভাষা—সংস্কৃত ভাষা—

 প্রসন্ন। ওর মানে কি?

 আমি। মানে জিজ্ঞাসা করচ তুমিও? আচ্ছা বল্‌চি—মানে ছেঁড়া কাপড়—

 প্রসন্ন। ছেঁড়া কাপড় নিয়ে তোমার কি কাজ? ছেঁড়া কাপড় দিয়ে ত আমরা বাসন কিনি। তা যা হ’ক, ছেঁড়া কাপড় বল্লেই ত হ’ত; যা লোকে বুঝবে না এমন কথা না বল্লেই ত হ’ত।

 আমি। তাই কি হ’ত? ছেঁড়া কাপড় বল্লেই ত তোমার বাসনকেনার কথা মনে আসত; আমার এ বাসাংসি জীর্ণানিতে বাসন-কেনার ব্যাপার মোটেই নেই।

১৪০