বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৪৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

২৪

নারীর শত্রু

আমি চিরদিন শুনে আসচি—নারীর নির্য্যাতন পুরুষে করে, শাস্ত্রে লোকাচারে, পুরুষই ইহপরকালে নারীর চির শত্রুরূপে বিদ্যমান। একথা কোন কোন পুরুষের মুখেও প্রকাশ হয়েচে এবং এখন নারীও ঐ কথাই বল্‌তে সুরু করেচে। কিন্তু কথাটা একদম মিথ্যা কথা। নারীর শত্রু নারী, পুরুষ নয়; তা’র আমি প্রমাণ দেব।

 আসামী কবুল দিলেই যে তা’র নিরপরাধিতা প্রমাণ করা যায় না তা নয়, যাঁরা Evidence Act পড়েছেন তাঁরা তা জানেন। কবুল যদি শেষ প্রমাণ হ’ত, তা হ’লে সাক্ষী সাবুদের হাঙ্গামা একেবারে উঠে যেত, সুধু কবুলের উপরেই ফাঁসী হ’য়ে যেত। তবে কবুল করলে, নিরপরাধিতা প্রমাণ করা কিছু শক্ত হ’য়ে পড়ে এই মাত্র। কবুলটা কাটানর জন্য দেখাতে হয় যে, অনেক সময় অপরাধ না করেও মানুষ কবুল করে, অনেক সময় অপরের বোঝা নিজের ঘাড়ে নেবার জন্য লোকে কবুল করেচে এমন ঘটনা অনেক ঘটেচে, নির্য্যাতনের চোটে মিথ্যা কবুল করাটাই সোজা পথ ইত্যাদি ইত্যাদি। এই রকম করে’ কবুলকারীর অনুকূলে অন্ততঃ benefit of doubt এনে দিতে হয়। এক্ষেত্রে যদি আমি আসামী পুরুষের

১৪২