কমলাকান্তের পত্র
বিবাহ ব্যাপারে এবং শুভপরিণয়ের কিছুদিন পর পর্য্যন্তও, মাতাঠাকুরাণীর তথা পিতা ঠাকুরের বড়ই “ন্যাওটো” হ’য়ে থাকেন; কেননা তখনও তিনি পিতার অন্নে পরিপুষ্ট, নিজে উপায়ক্ষম নহেন; হয়ত সবে মাত্র দু’টা পাশ করেচেন, এবং আর দুটা পা’শ কর্ত্তে কর্ত্তে দু’টী কন্যার পিতা হ’য়ে পড়লেন; সুতরাং অন্য কোন বিষয়ে না হ’লেও, কলত্র ও কন্যাগণের ভরণপোষণের জন্য পিতামাতার একান্ত আজ্ঞাবাহী হওয়া ভিন্ন তাঁর গতি কি? দাসী আনতে যাচ্চি বলে’ যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন, সে প্রতিশ্রুতি রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে, পরিণীতা সম্বন্ধে সম্পূর্ণ উদাসীন থেকে, অশেষ মাতৃভক্তি প্রদর্শন দ্বারা ইহপরলোকের কল্যাণ অর্জ্জন করা, তাঁর খুবই প্রয়োজন হ’য়ে থাকে। পরিণীতার প্রতি তাঁর যে কর্ত্তব্য, তা’র সম্বন্ধে তাঁর যে দায়িত্ব, সে সব শিকেয় তোলা থাকে; কেন না তিনি স্বয়ং ভর্ত্তা হ’লে কি হয়, নিজের ভরণ পোষণের জন্য তিনি পিতার মুখাপেক্ষী—ছেলের বাপ হ’লে কি হয়; তিনি তখন বাপের ছেলে, নিজের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারেন না, তিনি আবার কি করে’ পরিণীতার বোঝা বইবেন; তিনি তখনও “স্বয়মসিদ্ধঃ কথমন্যং সাধয়তি”। অতএব যাঁর দাসী তাঁর হাতে দিয়ে তিনি নিশ্চিন্ত থাকেন।
এই যে “শ্বাশুড়ী” যিনি (কবি বলেচেন) “কলিতে অমর” অর্থাৎ যিনি যুগে যুগে একই মূর্ত্তি পরিগ্রহ করে’ বর্ত্তমান,—যিনি ছেলের মা, সুতরাং অপর মায়ের সন্তানের উপর যাঁর শাসন দণ্ড সতত উদ্যত হ’য়েই আছে—যিনি হয়ত মাতৃরূপে অন্নপূর্ণা, স্ত্রীরূপে
১৪৪