কমলাকান্তের পত্র
বাসবে, না হয়, তোমাকে “দুটি-চক্ষের বিষ” দেখবে; মাঝামাঝি কিছু হওয়া তা’র প্রকৃতি নয়; সুতরাং শ্বাশুড়ী যখন নববধূর মা ন’ন, তার মা’র “মত” হওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব, তিনি তা’র বিমাতাই হবেন; আর সৎমা আর শ্বাশুড়ী একই পদার্থ, একটু উল্টাপাল্টা।
মাতা পুত্রবৎসলা, পিতা কন্যাবৎসল, ইহাই biological সত্য। পুত্রবৎসলা মাতা দেখেন, যৌনধর্ম্মের নির্ম্মম নিয়মে স্নেহাস্পদ পুত্র অপর নারীর স্নেহের পাত্র, অপর নারীকে স্নেহের ভাগ দিচ্ছে, নারী হ’য়ে মাতা তা সহ্য করতে পারেন না। স্বামী পত্ন্যন্তর গ্রহণ করলে তাঁর মনে যে ভাব হয়, স্নেহময় পুত্র অন্য নারীর স্নেহাস্পদ হ’লে তা’র অনুরূপ ভাব মাতার মনে উপস্থিত হয়। কথাটা যে রকমই শুনাক, সত্য কথা। আমাদের মেয়েলী-ছড়ায় আছে—
মেয়ে বিয়োলাম পরকে দিলাম
ছেলে বিয়োলাম পরকে দিলাম
এই হা-হুতাশের ভিতর “পরকে” দিয়ে নিশ্চিন্ত হবার ভাব নেই, নির্ম্মম অন্তর্দাহেরই উচ্ছ্বাস আছে মাত্র।
তারপর শ্বাশুড়ী ঠাকুরাণী যে-মেয়েটী বিইয়েচেন, সেটী তাঁর নাড়ী-ছেঁড়া রত্ন, তাঁতে আর “পরের মেয়েতে” ত তুলনাই হ’তে পারবে না। তিনি যদি দোহন-কার্য্য শেষ করে’ থাকেন, অর্থাৎ বিবাহিত হ’য়ে থাকেন ত তিনি বাপের বাড়ির বন্ধন থেকে মুক্ত, সুতরাং তাঁর নববধূর সম্বন্ধে কার্য্যের বাঁধও মুক্ত। স্নেহময় ভ্রাতা,
১৪৬