বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/১৬১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

প্রজাপতির নির্ব্বন্ধ

বৃক্ষজন্মের শেষ। এই রকম মানুষও সম্ভাবনা নিয়ে জন্মায়, সে সম্ভাবনা বাস্তবে পরিণত হবে কি না তা'র স্থিরতা না থাক্‌লেও একটা নির্দ্দিষ্ট পথেই সে যাবে, আর সে নির্দিষ্ট পথটা তা'র অতীত ও বর্ত্তমান, তা'র পূর্ব্বজন্ম আর ইহুজন্ম দুইয়ে মিলে, ঠিক করে’ দেবে।

 এ কথা যদি মান্‌তে হয়, তা হ'লে কখন্ কোন্ ভ্রমর এল কোন্ অজানা ফুলের পরাগ নিয়ে, কোন্ ফুলে ফল-সম্ভাবনা করে’ গেল, সেই সংযোগটাকে সর্ব্বস্ব বলে’ না মেনে, ফুলের পশ্চাতে বৃক্ষ, তা’র পশ্চাতে সহস্র বর্ষের দেওয়া-নেওয়া ভাঙ্গা-গড়াকে মানতে হয়, স্কুলের পূর্ব্বজন্ম মান্‌তে হয়, আর ফুলের ভিতর ফলের, তার পর বৃক্ষের সম্ভাবনা অর্থাৎ পরজন্ম, সেটাকেও মানতে হয়; এবং সংযোগটাকে সুধু সংযোগ মাত্রই ধরে' নিলে, কোন ক্ষতিই হয় না। মনুষ্য জীবনে অতীতের সঞ্চিত পুঞ্জীকৃত প্রচেষ্টার মর্য্যাদা যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, ইহজন্মে তা'র সংস্কার, তা'র বিস্তার হয়, আর ভবিষ্য বংশীয়দের শোণিত-স্রোতে সঞ্চারিত হ'য়ে, চিরবহমান হ'য়ে, চলে যেতে পারে, তা’র জন্য যত্ন, তা'র জন্য এই জীবনে সমস্ত আয়োজন, একাগ্রতা, নিষ্ঠা, ভোগ এবং যোগ সমস্তই করে' যেতে পারলে, তবে ত মনুষ্য জন্ম সার্থক হ'ল; নয়ত অভাগা আর অভাগীর মিলনকে অগ্নিসাক্ষী করে', নারায়ণকে ডেকে, সংস্কৃত-মন্ত্রপুত করে' কি লাভ? সেটা শুধু mummery and gibberish ছাড়া আর কিছু নয়!

 অর্বাচীনগুলো বিয়েটাকে একটা mummeryই করে’ তুলেচে, একটা অভিনয়ে এনে দাঁড় করিয়েচে। ক’নে যাচাই করা থেকে

১৫৫