বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

স্বপ্নলব্ধ রক্ষাকবচ

বুঝিলেন যে বিজ্ঞান সম্মত হইলে কি হয় ওটা আমাদের ধাতুসম্মত নহে, অতএব পরিত্যজ্য। সে পথ ত্যাগ করিয়া দেশের রাজাকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে তৈলাক্ত করিয়া (constitutional agitation) কার্য্য হাসিল করিবার ধূম পড়িয়া গেল—তাহার ফলে নূতন কাউন্সিল গড়িয়া উঠিল, তাহাও আজ মাকাল ফল বলিয়া পরিত্যজ্য মনে হইতেছে, যে হেতু সেটাও আমাদের শরীর ধাতুর (constitution) অনুকূল নহে। কিন্তু এইবার যে পথ আবিষ্কৃত হইয়াছে, প্রসন্ন, আর ভাবনা নাই, এই পথ প্রকৃষ্ট পথ, আমাদের ধাতুর অনুকূল পথ, আমাদের সনাতন পথ,—দেবতার শরণাপন্ন হও, আর মাদুলি পর, এপথে কোন ভাবনা চিন্তা নাই, বিপরীত ফলোদ্গমের কোন আশঙ্কা নাই, শত সহস্র লোক এই পথ অনুসরণ করিয়াছে, আর ভাবনা নাই।

 প্রসন্ন হঠাৎ উঠিয়া তীরবেগে আমার উঠান পার হইয়া চলিয়া গেল—“গরুটা ভাগাড়ে যাক ভাল করে’ দুধ খেয়ো’খন”—এই বলিয়া আমার দিকে তীব্র কটাক্ষ করিয়া অদৃশ্য হইয়া গেল।

 আমি দেখিলাম—আমার উঠানটা ভারতবর্ষব্যাপি বিস্তৃত বিরাট হইয়াছে, কত নদনদী, কত পর্ব্বত, কত বন, কত নগরনগরী, কত গ্রাম, কত কুটীর, কত নরনারী কিলিকিলি করিতেছে, সব গান্ধীর টুপী পরিয়া, খদ্দর পরিয়া, নিশ্চিন্তমনে আপনাপন ছোটবড় কাজে ব্যাপৃত রহিয়াছে, আকাশ বাতাস ভরিয়া গান্ধীর নাম উচ্চারিত হইতেছে—সকলের গলায় এক এক গান্ধী-রক্ষাকবচ।


১৫