কমলাকান্তের পত্র
দেখিলেন, আর চিরদিনের মেকি মতটাও চলিতে থাকিল।
তোমরা যে টিপ পর, কাজল পর, পাতা কাট, আল্তা পর, গহনা পর, রঙ্গীন শাড়ী পর—এটা কতখানি মেকি চালাইবার সরঞ্জাম তা ত বুঝিতে পার? আর এই সরল উপায়ে ত মেকি চলিয়াও যায়! পরচুলা ও বাঁধান দাঁত, corset ও cosmetic, সে’ও ত চলে! কেন চলে? যে দেখে সে দেখিয়াও দেখে না, বা না-দেখার ভান করে—আর যে দেখায় সে সত্যকার দেখাটাকে ধূপছায়ার মধ্যে, আলো-আঁধারের মধ্যে যতটা পারে এড়াইবার চেষ্টা করে। এই আলো-আঁধারের মধ্যে কত টিকি, তিলক, বহির্বাস চলে’ যাচ্চে, কত public spirit, philanthropy চলে যাচ্চে, ঐ পথে মেকি টাকাটা ত চলিয়া আসিয়াছে এবং চলিয়া যাইবে, তুমি ভেব না।
প্রসন্ন। তা বলে’ কি লোকে ঘসে মেজে বাজিয়ে দেখে নেয় না বল্তে চাও?
আমি। সে দিকে, জীবনটা বড় ক্ষুদ্র যে প্রসন্ন, বাজিয়ে দেখতে দেখতে বাজি ভোর হ’য়ে যাবে, এ সুদীর্ঘ পথ আবার বাজিয়ে দেখতে দেখতে ফুরাবে না। আর বাজিয়ে দেখাও কি সোজা আর সুখের মনে কর? বাজিয়ে দেখতে দেখতে যে কত মেকিই ধরা পড়ে যাবে তা’র ইয়ত্তা আছে কি? সব ঝুটা হ্যায়—বলে’ শেষে মানুষ পাগল হ’য়ে যাবে যে!
আর ঘসে মেজে নেবারই যদি চেষ্টা করা যায় যেমন বিবেকের কষ্টি-পাথরে গিল্টি ধরা পড় পড় হয়েছে, অননি চারিদিক থেকে হাঁ হাঁ করে’ বলে’ উঠবে—ওটা অপৌরুষেয় বেদবাক্য, ওটা mystery, ওটা
১৮