আঁটকুড়ী
আমি। বলতই যদি, তুমি মনে কর কি আমি অমনি তোমার মত ধেই ধেই করতুম? আচ্ছা আমাকে বল দেখি—তোমার ক’টি ছেলে?
প্রসন্ন। একটিও না।
আমি। ক’টি মেয়ে?
প্রসন্ন কর্কশ কণ্ঠে বলিল—একটিও না—তা বলে' কি আবাগীরা আমাকে আঁটকুড়ী বলবে? ছেলে-মেয়ে হওয়া না-হওয়া কি মানুষের হাত?
আমি। হাত যারই হ’ক. হয়নি যখন তখন হয়েছে বলা ত আর চলে না? তোমাকে কেউ যদি পুত্রবতী, জেয়ঁচ বলে—সেটা তুমি গালি বলে’ না নিলেও বিদ্রূপ বলে’ নিতে ত? বিদ্রূপ ত গালাগালিরই ছোট ভাই। সেইটাই বা কি করে’ সহ্য করতে?
প্রসন্ন। তাই বা বলবে কেন?
আমি। তবে কি বলবে? ছেলে হয়েছে ত বলবে না, হয়নি ও বলবে না! তোমার একটা স্বরূপ বর্ণনা ত আছে?
প্রসন্ন। তুমি যেমন ন্যাকা! ছেলে হয়নি আর আঁটকুড়ী বুঝি এক কথা?
আমি। ঠিক এক কথা নয় বটে; হয়নি বলে’ তুমি যেন একটু ছোট, যেন একটু অপরাধিনী, অভাগিনী; আর যিনি বলেচেন, তাঁর ছেলে হয়েছে বলে’ তিনি একটু বড়, একটু ভাগ্যবতী, এইটে যেন তিনি তোমাকে স্পষ্ট করে' বুঝিয়ে বলেচেন, এইত? কিন্তু গোড়াকার কথাটা ত সত্য?
২৩