বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

সেবা

কোনরূপ উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়েছে তা আমি মনে করি না।

 ১ম যুবা। যাই হ’ক। প্রসন্ন মাসি যখন এত করলে, আর আমাদের সেবা নিতেই তা’র যত কষ্ট! এ বড় অন্যায়।

 ২য় যুবা। আমরা এত পরিশ্রম করলুম তা’র বুঝি দাম নেই?

 ৩য় যুবা। না-না, আমরা দাম হিসাবে কিছুই চাইছি না! আমরা যে লোকশিক্ষা আর দেশ (আমাদের গ্রামটাই দেশ) সেবার এই ব্যবস্থা করলুম, সেটা কি প্রকাশ্য ভাবে,—পৃথক করে’— পরিস্ফুট করে' স্বীকার করা উচিত নয়?

 প্রসন্ন নিস্তব্ধ হইয়া বসিয়াছিল। আমি বলিলাম-সেবাকার্য্যের সবটাই তোমরা করেছ—এই তো তোমাদের কথা? কিন্তু মনে কর, প্রসন্ন যদি প্রথম খড়-জড়ান মূর্ত্তিটা উনানের ভিতর দিত, তা হ’লে তোমাদের দেশসেবার অবসর কোথা থাকত বাপু? প্রসন্ন যদি তা’র মুখে-রক্ত-ওঠা পয়সা একটিও না ছাড়ত, তা হ’লে শুধু উঠান চেঁচে, সেই উঠানে উপবিষ্ট অতিথির মুখে সবুজ ঘাস আর মাটির ডেলা ভিন্ন কি দিতে বাপু? গয়লার মেয়ের কি সুবুদ্ধিটা তোমরা দিয়েছিলে? তা’র মাথার–ঘাম-পায়ে-ফেলে একটি একটি করে’ রোজকার করা টাকা যদি জলের মত সে ঢেলে না দিত, তবে তোমরা সুধুহাতে অষ্টরম্ভা ছাড়া আর কি কা’কে খাওয়াতে বাপু? আর দেশের লোকের সঙ্গে কি পরিচয়ই হ’ত বাপু হে? অতএব পরিস্ফুট করে’ যদি কিছু স্বীকার করতে হয়, তবে আগে স্বীকার কর—প্রসন্নর হৃদয়, প্রসন্নর অর্থদান, প্রসন্নর ত্যাগ। তারপর পরিবেশন ও পরিচর্য্যার কথা তুলো। সেটা

৩৩