কমলাকান্তের পত্র
মানুষমাত্র, স্ত্রীও নয় পুরুষও নয়। এ অবস্থাটা নির্ব্বাণের পূর্ব্ব—সূচনামাত্র; মানুষ যে জন্মাবধি তিল তিল করে' মরে, এটা সেই মৃত্যুরই পূর্ব্বাভাষ মাত্র; তথাপি এটা স্বাভাবিক; বিকার হ'লেও অনৈসর্গিক নয়।
কিন্তু জীবন্ত পুরুষ আর জীবন্ত নারী দুইটা স্বতন্ত্র জীব; দুইটার স্বতন্ত্র ধর্ম্ম; সে ধর্ম্ম যিনি স্ত্রীকে স্ত্রী করেচেন, পুরুষকে পুরুষ করেচেন তিনিই নির্ণয় করে' দিয়েচেন; তাদের শরীর মন সেই ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম্মের অনুযায়ী করে’ গড়েছেন। নারী যদি পুরুষসুলভ গুণের বা কার্য্যের অধিকার চায়, সেটা নারীস্বভাবের বিকার বা অস্বাভাবিক পরিণতি বল্তেই হবে।
এদেশে পুরুষ চিরদিন রমণীকে মাতৃ-আখ্যা দিয়ে এসেছে, সেটা ঠিক নিছক courtesy নয়; কেননা স্ত্রীর স্ত্রীত্ব আর মাতৃত্ব একই কথা, আমাদের দেশের এই সনাতন ধারণা। ইউরোপের অন্য কথা। বিলাতী Blue-stocking থেকে আরম্ভ করে' Golf, Cricket, Football, Tennis, Racing Championshipএ যে মা সকল প্রতিযোগিতা কচ্চেন তাঁদের আর ঠিক মা বলা চলে না। সিগারেট মুখে দিয়ে বা বাঁধা হুঁকা হাতে করে’ বসলে (পরমহংসদেব যাই বলুন) মা না বলে' বাবা বলাই ঠিক মনে হয় না কি?
সুধু ফুটবল, ক্রিকেট ইত্যাদিতেই যে মাতৃত্ব অর্থাৎ স্ত্রীত্ব ক্ষুণ্ণ হ’য়ে যাচ্চে তা নয়; অতিরিক্ত মস্তিষ্ক চালনায় মাতৃহৃদয় শুষ্ক হ'য়ে গিয়ে, সন্তান-ধারণ-ক্ষমতা লোপ পেয়ে, গৃহস্থালী পরিচালনোপযোগী বৃত্তি সকল শুকিয়ে গিয়ে, ইউরোপে একটা তৃতীয় Sex সৃজন হচ্চে।
৪৬