কমলাকান্তের পত্র
নিয়ে অভিনয় কার্য্য সম্পন্ন করে’ নাট্যকলার পরিণতি হ’য়েছে? তা হ’তে পারে না, আর হ’তে পারে না বলেই, হয় নি। Sarah Bernhardt—যাকে Divine Sarah বলে, বা Ellen Terry, বা সুকুমারী দত্তকে যদি সাবিত্রী হ’তে হ’ত, তা হ’লে আর অভিনেত্রী হওয়া হ’ত না—হয় সাবিত্রী নয় অভিনেত্রী—দুইই এক সঙ্গে, হ’তে পারে না, হয় নি, হবে না। অভিনেতা সম্বন্ধেও সেই কথা। তবে যদি কেউ বলেন—তবে চুলোয় যাক অভিনয়! যায় যাক! কিন্তু সাবিত্রীকে অভিনেত্রী করলেও তাই হ’বে, অভিনয় চুলোয় যাবে। থিয়েটারকে ঠাকুর ঘরের আইন দিয়ে বাঁধলে চলবে না। কারও কারও ধারণা থাকতে পারে যে, বিলেতে এমনটা হয় না; তাঁরা ভুলে যান যে, “বিলেত দেশটাও মাটির, সেটা সোনার রূপোর নয়”। সেখানে Stage একটা profession বটে এবং honorable professions বটে; কিন্তু honorable কেন? নাট্যশালাটা কলাভবন বলে’, ঠাকুর ঘর বলে’ নয়; নট ও নটীরা যথাক্রমে যুধিষ্ঠির ও সাবিত্রী বলে’ নয়। সেখানে গীর্জ্জার আইন Stageএ চালাবার ধৃষ্টতা কেউ রাখে না। সে দেশে নটীরা stage থেকে বাজারে আসে, এখানে বাজার থেকে stage এ যায়, আগু আর পিছু, এইমাত্র প্রভেদ। ফলে দাঁড়িয়েছে যে সে দেশের নাট্যকলা স্ফূর্ত্ত হ’য়ে সুন্দর হয়েচে, আর আমাদের দেশে যে ভ্যাংচান সেই ভ্যাংচানই র’য়ে গেছে।
আনি একবার মস্তবড় জায়গায়, মস্তবড় শোক সভায়, উপস্থিত ছিলাম; মস্তবড় এক মহারাজা সে সভার সভাপতি; মস্তবড় পণ্ডিত, মস্তবড় ধর্ম্মাধিকরণের ধর্ম্মাধিকার বক্তা। যে পুরুষসিংহের মৃত্যুতে
৫৮