কমলাকান্তের পত্র
নিরিমিষ্যি আতপ তণ্ডুল ও অপক্ব কদলী ভোজীর দল—এমন কেউ নেই যে বলে—হে পণ্ডিতম্মন্যগণ, এ অবিভাজ্য বিভাগ কি হিসাবে কর? এ যে অদ্বৈত, লেখার অন্তরালে লেখক, সৃষ্টির অন্তরালে স্রষ্টা, প্রকৃতির অন্তরালে পুরুষ! একটা দূর করে’ দিলে কি আর একটা টিকে? রাখ তোমার ছুঁচিবাই, তোমার শবব্যবচ্ছেদ। এমন সময় এক দিব্যজ্যোতি যুবাপুরুষ দণ্ডায়মান হ’য়ে, সেই বিশাল কক্ষতল কম্পিত করে’ গর্জ্জে উঠল, গিরিশ বাবুকে ভগবান একটা অখণ্ড মানুষ করে’ পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন, তাঁর দেহ মন নিয়ে তিনি একটা গোটা মানুষ; কোন্ অধিকারে আপনারা সেই গোটা মানুষ্টাকে খণ্ড খণ্ড করে’, তার হাতটা ন’ব, পাটা ন’ব না, মাথাটা ন’ব, ধড়টা ন’ব না, এই ব্যবস্থা করচেন? নিতে হয় সমস্তটা নিন, তাঁর নাটক নিন, মদের বোতলও নিন—আর সাহস থাকে ত সমগ্র মানুষটাকে পরিত্যাগ করুন—তাঁর নাটকগুলোকে বগলদাবায় করে’ মানুষটাকে স্বারস্বত কুঞ্জ থেকে অর্দ্ধচন্দ্র দিয়ে বহিষ্কৃত করে দেবার আপনাদের অধিকার নেই, সাধ্য নেই।’ আমি বল্লাম—বহুত আচ্ছা, জীতা রও।
যিনি যুগের মানুষ, যুগাবতার, তিনি গিরীশ বাবুর ‘চৈতন্য লীলা’ নাটকের অভিনয় দেখে ভাবাবিষ্ট হয়েছিলেন; সংজ্ঞা হ’লে নাটককারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এই ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। গিরিশ বাবু তখন জগাইএর ভূমিকা গ্রহণ করে’ জীবন্ত জগাইরূপে গ্রীনরুমে অধিষ্ঠান কচ্চেন। যুগাবতার সেইখানেই গিয়ে উপস্থিত; একদিকে মাতাল গিরিশ, আর-একদিকে সত্ত্বগুণের আধার পরমহংস দেব;
৬০