কমলাকান্তের পত্র
কানুন হয়েচে। তা’তে কবর খুঁড়ে অস্থি বা ভক্তগণ-স্থাপিত-মূর্ত্তিকে, স্থানচ্যূত করে’ গুদামজাত করার কোন প্রত্যবায় হয় নি। ভারুটের বৌদ্ধস্তূপের বিচিত্র শিল্প-সম্পত্তি কলিকাতার যাদুঘরে জমা করা দেখলে, চিৎপুরের ট্রামের ঘর্ঘর, বেচা-কেনার কোলাহল কচকচি, ধূম ও ধুলার অন্ধকারে, খাঁচার ভিতর বন্দী কোকিল বা পাপিয়ার কণ্ঠস্বর মনে পড়ে; মুক্ত বাতাস, মুক্ত আকাশ থেকে বঞ্চিত করে’ যে হৃদয়হীন তা’কে চিৎপুরের জাফ্রিঘেরা বারান্দার ভিতর পিঞ্জরবদ্ধ করেচে তাকে অভিসম্পাত করিতে ইচ্ছা করে। আমার মনে হয় বন্দী পাখীগুলোর মত বন্দী পাথরগুলোর প্রাণ আর্ত্তনাদ করচে! তাই আমি বলি যেখানে যা পাও বা আবিষ্কার কর, সেইখানেই যত্ন করে’ সংরক্ষণ কর; স্থানচ্যুত করে’ সংরক্ষণ, ইতিহাসেরও মাথায় পা দিয়ে ডুবান! খরচে কুলাবে না—পয়সা নেই, সে সব বাজে কথা। যদি সে খরচ না যোগাতে পার, আবার বলি, আবিষ্কার করা ছেড়ে দাও। যেখানকার জিনিষ সেইখানেই থাক, এতদিন ত ছিল, আরও কিছুদিন থাক। ভক্তের আরাধনার বস্তু ভক্ত যেখানে স্থাপন করেছিল—সেই জল স্থল আকাশ নদ নদী বৃক্ষলতা তা’রই মধ্যে থাক; সেখান থেকে তুলে এনে গুদাম ঘরে পুরে রাখলে কি ভক্তের বুকে, আর সেইসঙ্গে ইতিহাসের বুকে ছুরি দেওয়া হয় না? তুমি বলবে ভক্ত কই? সে ঠিক কথা, ভক্ত নেই, ঐতিহাসিক আছে। মুসলমান ভাই সকলের প্রতাপে কোন নিভৃত জঙ্গলের ভিতরকার একটা ক্ষুদ্র দরগার একখানি ইষ্টক সরিয়েছ কি কানপুরী দাওয়াইএর ব্যবস্থা। মুসলমান ভাইগণের
৬৬