বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/৭৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কমলাকান্তের পত্র

other side must see, that unarmed Germany could not be conquered by arms. Till then the Germans must endure.

 এ কথা এক কমলাকান্ত ও কমলাকান্তধর্ম্মী পুরুষের মুখেই শোভা পায়। কেবল এক মন্ত্র কমলাকান্ত বিশ্বাস করে যে, সেদিন আসিবে যেদিন মানুষে মানুষে তফাৎ থাকিবে না,—সকলেই মৌতাতী হইবে। আর হাতিয়ার থাকিলেই মানুষকে বশ করা যায় না; নিরস্ত্রকে কাটিয়া ফেলা চলে কিন্তু conquer করা চলে না। তবে ভূতলে স্বর্গরাজ্য স্থাপিত না হওয়া পর্য্যন্ত কমলাকান্তকে তথা তার মত নিরুপদ্রবীকে endure করিতে হইবে—অর্থাৎ সহ্য করিতে হইবে, এবং ধৈর্য্য ধরিয়া বাঁচিয়া থাকিতে হইবে, কেন না, না বাঁচিয়া থাকিলে স্বর্গ নামিয়া আসিবে না, তাহাকেই স্বর্গে আরোহণ করিতে হইবে।

 কিন্তু আমার মৌতাত যখন পাতলা হইয়া আসে, তখন আমার নিরেট অর্থাৎ জমাট বুদ্ধিটাও একটু তরল হইয়া পড়ে এবং সন্দেহ সুবুদ্ধির মুর্ত্তি ধরিয়া আমাকে জ্বালাতন করে; তাহার কোন প্রতিকার না করিতে পারিয়া আমি একমাত্রা আফিম চড়াইয়া সে সন্দেহকে ঘুম পাড়াইয়া দি। সন্দেহটা এই—জার্ম্মাণি যে আমার অসহযোগনীতি গ্রহণ করিয়া আমাকে এবং নীতিটাকে ধন্য করিয়াছে সেটার শেষ পর্য্যন্ত মান রাখিবে ত? তার মান রাখিতে হইলে দুইটা কার্য্য করিতে হইবে; এক ফ্রান্সের দাবী শেষ পর্যন্ত অগ্রাহ্য করা এবং শেষ পর্য্যন্ত অস্ত্রধারণ না করা। কারণ ফ্রান্সের দাবী

৭০