বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

হেতু আমরা

গ্রাহ্য করিয়া একটা মিটমাট করিতে রাজি হইলে, অথবা অস্ত্রের মুখে ফ্রান্সের ধৃষ্টতার প্রত্যুত্তর দিলে, অসহযোগ পণ্ড হইয়া গেল। মনে কর ঘরে চোর ঢুকিয়াছে, ঘটিই লউক, আর বাটিই লউক, আমাকে নিশ্চেষ্ট হইয়া চোরের সুপ্ত বিবেক যতক্ষণ না জাগে ততক্ষণ চুপ করিয়া নিদ্রার ভান করিয়া শুইয়া শুইয়া চোরকে আশীর্ব্বাদ করিতে হইবে, তবে আমি নিরুপদ্রব অসহযোগী। চোর চোর করিয়া চীৎকার করিয়া পাড়ার লোক ডাকিয়াছি কি (চোরের গলাটেপা ত দূরের কথা) আমার ধর্ম্মও গেল, জিনিষও গেল, চোরকে সাধু করাও হইল না! জার্ম্মাণি শেষটা সেই প্রকার ছেলেমানুষী করিয়া সব পণ্ড করিয়া ফেলিবে না ত? মাঝে মাঝে Guerilla warfareএর ধুয়া তুলিতেছে, শেষে শত্রুর গায়ে সত্য সত্যই হাত তুলিয়া বসিবে না ত?

 আর যদিই বসে, নিরুপদ্রতার মাহাত্ম্য ঘোষণা করিবার আমার অনেক পন্থা আছে, সেজন্য আমি ভাবি না। প্রথমেই আমি বলিব East is East and West is West, the twain shall never meet—সুবুদ্ধি হইয়াছিল তাই জার্ম্মাণি আমার আধ্যাত্মিকতা গ্রহণ করিয়াছিল, কিন্তু রাখিতে পারিবে কেন? জার্ম্মাণি গরু খায়, শূয়র খায়, আমি চতুষ্পদের মধ্যে আর সব খাই বটে (অন্তত যতদিন দাঁত ছিল খাইতাম) কিন্তু ও দুটো বাদ; আর দ্বিপদের মধ্যে যেটা সব চেয়ে জঘন্য, অর্থাৎ মুরগী, তাহা আমি স্পর্শ করি না, মুরগীর ডিমও খাই না, যদিও হাঁসের ডিমে আমার আপত্তি নাই। এ সব মৌলিক পার্থক্য বর্ত্তমান থাকিতে যে কার্য্যের পার্থক্য হইবেই তাহাতে আর আশ্চর্য্য কি?

৭১