বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কমলাকান্তের পত্র

আমার অনেক পয়সা দেখেছে, কাল রাত্রিতে আমার বাড়ী ঠাকুর ফেলে দিয়ে গেছে—আমি এখন কোথায় যাই, কি করি!” আমি বল্লাম, “তা হ’লে আমার যে আক্কেল হয়নি সেটা রাগের মাথায়ই বলেচ, আমার কাছে না-হ’লে বুদ্ধি নিতে এসেছ কেন? দেখ প্রসন্ন, পরের ধন আর নিজের বুদ্ধি সকলেই বেশী দেখে; আর দুধে অনেক জল ঢেলেচ বা অনেক জলে দুধ ঢেলেচ, তাতে পয়সা করেছ কি না তা জানি না—তবু না হয় একবার মা’র পূজা কল্লে—তাতে ক্ষতি কি, পূজার পুণ্যি আছে ত?” প্রসন্ন রাগিয়া বলিল—“তুমিও আমার পয়সা দেখচ, হা কপাল!” তখন আমি বল্লাম—“তবে এক কাজ কর, ঠাকুরখানার ত এখনও মুণ্ড বসেনি, ওটা একটা কাঠামই ধরিয়া লও—ওটাকে উনানজাত করিয়া ফেল, আপদ মিটে যাক্!”—প্রসন্ন বল্লে, “তা কি হয়?” —আমি বল্লাম—“এও না ও-ও না—পূজো কর্ত্তেও ইচ্ছে আবার না কর্ত্তেও ইচ্ছে, এতে আর আমি কি বলি বল।” প্রসন্ন বল্লে—“আমার যখন ইচ্ছে হয় তখন করবো, লোকে আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে জোর করে’ পূজা করাবে এ কি কথা?”—তখন আমি বল্লাম, “দেখ প্রসন্ন তুমি গয়লার মেয়ে সে তত্ত্বকথা তুমি বুঝবে কিনা জানিনা—তবে আজকালকার সব পূজাই একরকম ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া পূজা বা ফেলা পুজা; তোমার পাড়াপড়শি তোমার বাড়ী ঠাকুর ফেলে দিয়ে গেছে, আর সব না হয় তাদের পূর্ব্ব পুরুষরা তাদের ঘাড়ে ফেলে দিয়ে গেছে এইমাত্র প্রভেদ,—মা’র রূপ,মা’র শক্তি, মা‘র ঐশ্বর্য্য সম্যক হৃদয়ে ধারণ করে’ মা’র আরাধনার কাল বহুদিন