কমলাকান্তের পত্র
খাও, আর বক্তৃতা-মঞ্চে পরস্পর জড়াজড়ি কর, এ অভিনয়ের নিদারুণ প্রায়শ্চিত্ত একদিন করতে হবে। ভাইএর প্রতি ভাইএর প্রকৃত মনোভাবটা লুকিয়ে রাখচ, কেবল স্পষ্ট করে’ ব্যক্ত করবার সাহস নেই বলে’ ত? আমি বলি এটা একটা উৎকট ব্যাধি; রোগ চাপলে মজ্জায় গিয়ে পৌঁছায়; রোগের স্বচ্ছন্দ বিকাশ হ’তে দাও—হয় রোগ যাবে, নয় রোগী যাবে। কিন্তু চেপে রাখলে রোগীকে রক্ষা করে ধন্বন্তরীরও সাধ্য নাই। নয়ত সুচিকিৎসক ডাক, সময় থাকতে ডাক, যদি উপায় হয়।
এই বিপুল বৈচিত্র্যময় দেশের অতীত ইতিহাসে ভাই ভাইএর মিলন ঘটাবার বহুবার চেষ্টা হ’য়ে গেছে। একজন বলেচেন—“আমার ভাই হবে ত হও, নইলে তোমায় কতল করব।” বলা বাহুল্য তা’তে ভাই ভাইএ মিলন হয় নি। আর-একজন বলেচেন—“আমার এই ছত্রিশ খোপের দরজা খুলে দিলাম, যে আসতে চাও এস, এ ছত্রিশ খোপের একটা খোপে তোমার স্থান করে’ দেব।” তা’তেও সে ছত্রিশ কর্ত্তে ছত্রিশই রয়ে গেছে, ভাই ভাইএ মিল হয় নি।
আমি বৃদ্ধ কমলাকান্ত ঠিক খোলনা করে’ বুঝে উঠতে পারচি না কি করলে, এ ভাই ভাইএর বিরোধজনিত যে পাপ তা’র প্রায়শ্চিত্ত হবে। আমি বৃদ্ধ আমি ভীতু, যুবা যে সে নির্ভীক; যুবা বলবে ভয় কি? আমি বল্ব ভরসা কিসের? যৌবনের রোগ বড়কে ছোট করা; বার্দ্ধক্যের রোগ ছোটকে বড় করা; দুর্লঙ্ঘ্য পাহাড়ের মত স্তূপীকৃত জঞ্জাল, যৌবন এক ফুৎকারে উড়িয়ে
৭৪