বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কমলাকান্তের পত্র

লাগলে, তারপর বিনয় কাজে লাগতে পারে; যখন লোকে তোমারি প্রতিমা মন্দিরে মন্দিরে গড়চে, তোমারি ছবি টাঙ্গাচ্ছে, তোমাকে সম্বর্দ্ধনা করচে (হয়ত তোমারই ব্যবস্থামত), তখন তুমি খুব বিনয়ী হ’য়ে বলবে—হাত দুটা কচ্‌লাতে কচ্‌লাতে, ঘাড় নুইয়ে, ভূমি সংলগ্ন দৃষ্টি হ’য়ে—“আপনাদেরই কৃপা, আমি অতি অকিঞ্চন, এটা আমাকে সম্বর্দ্ধনা করচেন না, আমায় উপলক্ষ করে’ আপনারা আমার জাতকে, আমার সম্প্রদায়কে, আমার professionকেই সম্বর্ন্ধনা করচেন—ইত্যাদি ইত্যাদি।

 সতি দেবতার পশ্চাদ্ভাগ দগ্ধ করে’ সুদূর আমেরিকা থেকে বা home থেকে লম্বা খেতাব ‘জুগাড়’ করে’ আনিয়ে, সেটা ব্যবহার না করায়, পরম পবিত্র বিনয় প্রকাশ পায়; আজকাল খেতাব পরিত্যাগে কিছু সম্মান বেশী; একেবারে পরিত্যাগ যদি নাও করতে পার, খেতাবটা ব্যবহার না করে’ যদি বল—“আমি অতবড় খেতাবের উপযুক্ত নই” খেতাবটা ব্যবহার করার চেয়ে বেশী মান অর্জ্জন করবে।

 যদি তুমি লেখক হও, অর্থাৎ বই লিখে ছাপিয়ে থাক—নিজের নাম সই-করা ভুমিকায় বিনয়ের বন্যা বহিয়ে দিয়ে—প্রকাশকের নাম দিয়ে নিজের ঢাক নিজে পিটতে পার, এও এক রকম বিনয়। আর একরকম বিনয়, চর্ব্ব্য-চুষ্য-লেহ্য-পেয় দিয়ে ভোজ দিয়ে গললগ্নীকৃতবাস হ’য়ে অতিথিগণের সমক্ষে বলা—‘বিদুরের খুদ, কিছু মনে করবেন না’; অথবা বৈদ্যনাথ কি সিমুলতলায়, দুতলা বাড়ী তৈরী করে’ মর্ম্মরে মুড়ে দিয়ে, দরজায় মর্ম্মর-ফলকে লিখে দেওয়া

৮৮