বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:কমলাকান্তের পত্র - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৯২৩).pdf/৯৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৬

ঐহিক ও পারত্রিক

এই ক্ষুৎপিপাসায় কাতর, সুখদুঃখের আলো-আঁধারে দিশেহারা, আশা-নিরাশার নাগর-দোলায় দোলায়মান মনুষ্য-জীবন শ্রান্ত ক্লান্ত হ’য়ে যখন অবসন্ন হ’য়ে যায়, আন্তরিক চেষ্টার ফসল যখন ফলে না, আন্তরিক স্নেহ-ভক্তির যখন প্রতিদান মিলে না, সুচিন্তিত কার্য্যশৃঙ্খলা যখন অর্দ্ধপথে কোন অপরিজ্ঞাত কারণে ছিন্ন হ’য়ে যায়, মানুষ তখন হালে পানি না পেয়ে, এই দুস্তর ভবসিন্ধু পারে এক সুখরাজ্যের কল্পনা করে’ ধৈর্য্য ধরে’ থাকে—যে সুখরাজ্যে তা’র সকল অতীত চেষ্টার ফল থরে থরে সাজান আছে, ইজ়ীবনে সকল ব্যর্থতা যেখানে সার্থক হ’য়ে উঠবে, প্রত্যেক স্নেহবিন্দুর প্রতিদান মিলবে, এ জীবন-মরুভূমির সকল উত্তাপ, সকল নীরসতা অপগত হ’য়ে যেখানে সুধু শান্তি, স্বস্তি, চরিতার্থতা, সৌন্দর্য্য চির-বিরাজমান থাকবে।

 স্বর্গের কল্পনাটাই আমার ছেলে-ভুলান “রূপকথা” বলে মনে হয়, তা সে কল্পনাময় সুখস্থানকে—Atlantis বল, Heaven বল, Empyrian বল, Valhalla বল, বেহেস্ত বল, আর বৈকুণ্ঠই বল। বয়স হ’লেও মানুষ শিশুই থাকে; রোরুদ্যমান ছেলের হাতে পিটে

৯০