পাতা:করিম সেখ - জলধর সেন.pdf/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিম সেখ (y ডুবাইতে পারে নাই, শরীরের উপর দিয়া জল চলিয়া যাইতে লাগিল । করিম তরকারীর সহিত যে বিষের গুড়া মিশাইয়া দিয়াছিল, বসির তাহার অধিকাংশ খায় নাই এবং বিষও বোধ হয় তেমন তীব্র নহে। এ দিকে বসিরের শরীরে ক্ৰমাগত জল লাগাতে সেই বিষের শক্তি হ্রাস পাইতে লাগিল। তাহার পর যখন জোয়ারের জল সরিয়া গেল, তখন বসিরের নিম্পন্দ দেহ সেইখানে কাদার মধ্যে পড়িয়া রহিল । ་་་་་་་་་་་་་ রাত্রি আটটা কি নয়টার সময় করিম বসিরকে জলে ফেলিয়া দিয়াছিল ; রাত্রি তৃতীয় প্রহরে তাহার চৈতন্য ধীরে ধীরে ফিরিয়া আসিল। চেতনাসঞ্চারের সঙ্গে সঙ্গে বমন আরম্ভ হইল । অতিরিক্ত লবণাক্ত জল তাহার উদরে প্রবিষ্ট হইয়াছিল, ক্রমশঃ তাহার ক্রিয়া আরম্ভ হইল। দুই চারিবার বমনের পর বসির নয়ন উন্মীলন করিল। তখন সে কিছুই বুঝিতে পারিল না, তাতার মস্তিষ্ক তখনও প্ৰকৃতিস্থ হয় নাই। একটু চক্ষু মুদিয়া থাকিয়া আবার সে চাহিল। ক্ৰমে সে বুঝিতে পারিল যে, নদীর তীরে কাদার মধ্যে সে পড়িয়া আছে ; তাহার পরিধেয় বস্ত্রের খানিকটা গাছের ডালে জড়াইয়া রহিয়াছে, আর খানিকটা তাহার কটিদেশ বেষ্টন করিয়া আছে ; তাহার বক্ষস্থল সেই গাছের দুইটা ডালের সন্ধিস্থলে আট্‌কাইয়া গিয়াছে। আকাশে চন্দ্ৰ হাসিতেছে, পার্শ্ব দিয়া নদী বহিয়া যাইতেছে, অদূরে বনের মধ্যে বিঝিপোকা ডাকিতেছে। তখন তাহার সমস্ত কথা মনে হইল। কিন্তু সে নদীর তীরে, কর্দমাক্ত দেহে পড়িয়া কেন ? ধীরে ধীরে অতীত স্মৃতি তাহার মানসপটে জাগিয়া উঠিল, বাড়ীর কথা মনে আসিল ;