পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/১১২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 কলিকাতা সেকালের ও একালের হইয়া পড়িতেছে দেখিয়া, উনবিংশ বর্ষীয় নবীন রাজ-কুমার—উদয়াদিতা, স্বয়ং স্বৰ্য্যকাস্তের স্থলাধিকার করিয়া, সেনা-চালনা করিতে লাগিলেন। মানসিংহ—যশোর-রাজকুমারকে, রণাঙ্গণে অসীম সাহসের সহিত প্রবেশ করিতে দেখিয়া, কতকগুলি প্রবল পরাক্রাস্ত হাব সি ও রাজপুত-সেনা – উদয়াদিত্যের দিকে পরিচালিত করিলেন । উদয়াদিতা, কিয়ৎক্ষণ ভীম বিক্রমে যুদ্ধ করিয়া, অবশেষে শত্রু-নিক্ষিপ্ত গোলার আঘাতে সমর-ক্ষেত্রে নিহত হন । রাজকুমার উদয়াদিত্য ও স্বৰ্য্যকাস্তের পতনে—প্ৰতাপ-সৈন্ত, বজাহতের মত হইয়া নিশ্চেষ্ট ভাব ধারণ করিল। পটুগীজ সেনাপতি রডা, এই উৎসাহ-হীন হিন্দু সৈন্যগণকে প্রোৎসাহিত করিয়া, আবার মোগলদিগকে ভীমবেগে আক্রমণ করিলেন। কিন্তু তিনি শেষ রক্ষা করিতে না পারিয়া যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রাণ বিসর্জন করেন। মানসিংহ এইবার জয়াশায় উৎসার্তিত হইয়া, যশোহর-দুর্গ আক্রমণ করিলেন। প্রতাপের শত্ৰুগণ, তাহাকে দুর্গের দুৰ্ব্বল স্থান গুলি দেখাইয় দিলে, মানসিংহ সেই সকল দিক হইতে আক্রমণ করিয়া, অতি সহজেই যশোহর-দুর্গ দখল করিলেন । প্রতাপ উপায়ান্তর না দেখিয়া, ধূমঘাট-দুর্গে আশ্রয় লইলেন । 尊 যশোহর দুর্গ জয় করিবার পর, মহারাজ মানসিংহ এই লোকক্ষয়কর যুদ্ধ বন্ধ করিবার জন্য, প্রতাপের নিকট সন্ধির প্রস্তাব করিয়া পাঠাইলেন । কিন্তু প্রতাপ—ঘূণার সহিত সে প্রস্তাব উপেক্ষ করায়, পুনরায় উভয়পক্ষে যুদ্ধ আরম্ভ হইল। তখন অবশিষ্ট আছেন—কেবল প্রতাপ ও শঙ্কর। প্রতাপ শঙ্করকে লইয়া, আবার নবোৎসাহে যুদ্ধ আরম্ভ করিলেন। • এই ভীষণ যুদ্ধের শেষ বর্ণনা, আমরা শাস্ত্রী-মহাশয়ের লিখিত কাহিনী হইতে উদ্ধত করিলাম।–“প্রতাপ শঙ্কর-সহ মিলিত হইয়া, মদম্রাব হস্তীর ন্যায়, অরাতিকুল সংহার করিতে করিতে, মানসিংহাভিমুখে অগ্রস হইতে লাগিলেন। মানসিংহ কতকগুলি সৈন্য, প্রতাপের সৈন্সের মধ্য ভাগ আক্রমণ করিতে প্রেরণ করিয়াছিলেন। তাহারা ঘোরত বিক্রমে, বীর সৈন্ত, ই-ভাগে বিভক্ত করিল। প্রতাপ,স্বীয় সৈন্ত হই বিচ্ছিন্ন হইয়া, মানসিংহ কর্তৃক পরিবেষ্টিত হইলেন। রজনীর বৃদ্ধি সহিত যুদ্ধ-ও অন্ধকার বদ্ধিত হইতে লাগিল। মানসিংহের সৈঙ্গ “প্ৰতাপ পরাজিত ও নিহত হইয়াছেন” এইরূপ শব্দ করিয়া, বঙ্গীয়-সৈন্যগণ