পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*○ কলিকাতা সেকালের ও একালের । কচুরায়, বাদসাহ জাহাঙ্গীরের নিকট হইতে জমীদারী এবং যশোরাজং উপাধি প্রাপ্ত হইয়া স্বদেশে প্রত্যাগত হন । 殯 মহারাজ প্রতাপাদিত্যের কন্যা বিন্দুমতী, পুনরায় স্বামীর সঙ্গে মিলিত হন। বিন্দুমতীর গৰ্ত্তে—রামচন্দ্রের, কীৰ্ত্তিনারায়ণ নামে এক মহাবল পুত্র জন্মে। প্রতাপ-দৌহিত্র কীৰ্ত্তিনারায়ণ, নৌযুদ্ধে বিশেষ প্রসিদ্ধি-লাভ করেন। তিনি মেঘনা নদীর উপকুলে ভীষণ যুদ্ধ করিয়া, পটুগীজ দস্থাদিগকে উক্ত প্রদেশ হইতে বিতাড়িত করিয়াছিলেন। ঢাকা-নগরীর মোগল-শাসনকৰ্ত্ত, কীৰ্ত্তিনারায়ণের বীর্য্যমত্তায় মোহিত হইয়া, তাহার সহিত সখ্যত স্থাপন করেন । প্রতাপাদিত্য-চরিতের পরিশিষ্ট ভাগে লিখিত আছে—“বসস্তরায়ের মৃত্যুর সময়, রমানাথ নামক তাহার এক পুত্র, পূৰ্ব্বদেশে মাতুলালয়ে অবস্থান করিতেছিলেন। কচুরায়ের রাজ্যপ্রাপ্তির পর, তিনি যশোহরে আগমন করিলে, পৈত্রিক বিষয়, রাজা উপাধি, এমন কি গুরু-পুরোহিত অবধি প্রাপ্ত হন নাই। রমানাথ যশোহর ত্যাগ করিয়া, প্রথমতঃ ফতুল্লাপুর গ্রামে নন্দকিশোর চৌধুরী মহাশয়ের বাটতে অবস্থান করেন। ইহঁর সন্ততিগণ পরে পুড়াগ্রাম নিবাসী, শ্ৰীযুক্ত রামভদ্র বসু মহাশয়ের যত্নে, পুড়াগ্রামে বাস করেন। রমানাথের সস্তুতিগণ এখনও পুড়া, ঘোড়গাছি প্রভৃতি গ্রামে বার করিতেছেন। কচুরায় নিঃসন্তান ছিলেন। উদয়াদিত্য ব্যতীত, প্রতাপের মুকুটমণি বলিয়া এক পুত্র জন্মে। রাজকুমার মুকুটমণির সম্বন্ধে কোন বিবরণ জানিবার উপায় নাই ।” প্রতাপের জন্ম বা মৃত্যুর কোন সময় নিরূপিত হয় নাই। শাস্ত্রী মহাশয়ের মতে প্রতাপ ১৬০৬ খৃঃ অব্দে বা ১০১৫ হিজরীতে সংসারলীলা সম্বরণ করেন। সম্ভবতঃ ১৫৬৮ খৃঃ অন্ধের কাছাকাছি সময়ে তাহার জন্ম হয় প্রচলিত কিম্বদন্তী ও প্রতাপাদিত্য সম্বন্ধে, যে সমস্ত পুস্তক বঙ্গ-ভাষায় রচিত হইয়াছে, তাহ অবলম্বন করিয়া আমরা প্রতাপের জীবনের সমস্ত ঘটনাবলীর আলোচনা করিয়াছি। প্রতাপ, বঙ্গের দ্বাদশ-ভৌমিকগণের মধ্যে অগ্রণী ছিলেন । কিন্তু দুঃখের বিষয় এই, তাহার সম্বন্ধে সমকালীন মুসলমান লিখিত ইতিহাসে, এমন কি আইন-ই-আকবরীতেও কোন কথা নাই। ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল, রামরাম বসুর প্রতাপাদিত্যচরিত ও শাস্ত্রী মহাশয়ের s নিখিল বালুর প্রতাপাদিত্য গ্রন্থে যাহা আছে, তদপেক্ষা আরও কিছু বেশী জানিবার চেষ্টা করিয়া, আমরা তৎকালীন স্থলভ ইতিহা |