পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/১৫২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


:) )R কলিকত। সেকালের ও একালের । এই—চৌরঙ্গী একদিন দেখিলেন, বনমধ্যে একটী গাভী এক স্থানে দাড়াইয় মৃত্তিকার উপর, অজস্র দুগুধারা বিসর্জন করিতেছে। সন্ন্যাসী এই অভূত ব্যাপার দেখিয়া, কৌতুহলাবিষ্ট চিত্তে সেই স্থান খনন করিতে আরম্ভ করেন, এবং খনিতস্থান-মধ্য হইতে, কালীর প্রস্তরময় মুখমণ্ডল প্রাপ্ত হন। সেই মুখই এখন কালীমূৰ্ত্তি রূপে মন্দিরমধ্যে বিরাজ করিতেছেন। এই সমস্ত কিম্বদন্তীর মধ্যে অনেক গোলযোগ আছে, অনেক অপ্রামাণিক কথা আছে। সে গুলির যথাসম্ভব আলোচনা না করিলে, প্রকৃত-ব্যাপার যে কি—তাহা বুঝিবার উপায় নাই। আধুনিক উচ্চশিক্ষা প্রাপ্ত, নব্য যুবকগণ, এ সমস্ত কিম্বদন্তী উপেক্ষার চক্ষে দেখিতে পারেন, ইহাতে বিশ্বাস না করিতেও পারেন। তাহাতে আমাদের কোন আপত্তিই নাই। কিন্তু যে সমস্ত মহাপ্রাণ হিন্দু, এই সমস্ত কিম্বদন্তীতে বিশ্বাস করেন, তাহীদের জন্ত—আমরা এ বিষয়ে আরও একটু আলোচনা করিতে ইচ্ছা করি। এ সম্বন্ধে কালীক্ষেত্র দীপিকা-কারও একটা বিশদ আলোচনা করিয়াছেন। এস্থলে আমরা তাহার অভিব্যক্তিগুলি, সংক্ষেপে আলোচনা করিব। কালীক্ষেত্র-দীপিকা হইতে আমরা দেখিতে পাই—কালীঘাটে কালীমূর্তির প্রথম আবিষ্কারের বিষয়ে, যে কয়েকটা কিম্বদন্তীর উল্লেখ করা হইয়াছে, তাহারা পরস্পর বিরোধী। কেশবরায়ের পুত্ৰ সন্তোষরায়, খৃষ্টীয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে বৰ্ত্তমান ছিলেন। তদনুসারে অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে বা সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগেও কেশবরায়ের বর্তমান থাকা ধরিলে, তাহদের দ্বারা কালীমুক্তির প্রকাশ সম্পূর্ণ অসম্ভব হইয়া পড়ে। কারণ ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে অর্থাৎ কেশবরায়ের সময়ের একশত বৎসর পূৰ্ব্বে রচিত, মুকুল রামের চর্তীকাব্যে, পীঠস্থান কালীঘাট ও তাহার অদূরবর্তী স্থান সমুহের উল্লেখ আছে। দেবীর প্রত্যাদেশ অনুসারে, কেশবরায় কর্তৃক কালীঘাটের কালীমূর্তির প্রথম আবিষ্কার হইলে, তাহার বহু পূৰ্ব্বে রচিত মুকুন্দরাম কবির গ্রন্থে কালীঘাটের উল্লেখ থাকিত না। আর কেশবরায়ের পুত্র, সন্তোষরায় কর্তৃক কালীঘাটের প্রথম আবিষ্কার হইলে, অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে গঙ্গাভক্তিতরঙ্গিণীতে-কালীঘাটে বলিদান ও ব্রাহ্মণগণ কর্তৃক চণ্ডীপাঠের কথার কোন উল্লেখ থাকা সম্ভবপর নহে। একটা জনশ্রুতিতে প্রকাশ—যে সস্তোষরায়-শঙ্খ ঘণ্টার শব্দ পাইয়া, গভীর বনমধ্যে উপস্থিত হন এবং তথায় একজন ব্ৰহ্মচারীকে কালীর আরতি করিতে দেখিতে পান। এই দটনা দ্বারাই প্রমাণ হয়, ষে কালীর সেবার জন্য নিশ্চয়ই তখন কোন সেবায়েৎ নিযুক্ত হইয়াছিল।