পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/১৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চতুর্থ অধ্যায়। ১৪৫ Tগ্ৰথমে খিদিরপুর নিবাসী--দেওয়ান গোকুলচন্দ্র ঘোষাল মহাশয়, কালীর cরিট রৌপ্যময় হস্ত নিৰ্ম্মাণ করিয়া দেন। ইনি ভূকৈলাসস্থ ঘোষাল রাজবংশের পূর্ব-পুরুষ । নবাবী আমলের অবসান হইলে, ইনি ইষ্ট-ইণ্ডিয়া কোম্পানীর অধীনে, দেওয়ান নিযুক্ত হন। তৎপরে কলিকাতা নিবাসী—বাবু কালীচরণ মল্লিক মহাশয়, বর্তমান চারিট । নিৰ্ম্মিত হস্ত প্রদান করিয়াছেন। চারি হস্তের চারিগাছি স্বর্ণময় কঙ্কণ-– } ড়েকডাঙ্গ নিবাসী yরামজয় বন্দোপাধ্যায় মহাশয় প্রদান করেন। কলি- ; কত বেলিয়াঘাটার,রামনারায়ণ সরকার নামক জনৈক ধনী চাউলব্যবসায়ী, কালীর স্বর্ণময় মুকটটা দিয়াছেন। দেবীর হস্তস্থিত অস্বরের মুণ্ড, কাহার প্রদত্ত—তাহার নাম পাওয়া যায় না। কালীর স্বর্ণময় জিহাট, পাইকপাড়ার রাজবংশাবতংস, স্বগীয় রাজা ইন্দ্রচন্দ্র সিংহ বাহাদুর দিয়াছেন। কালীর মস্তকোপরি সুশোভিত স্বর্ণছত্ৰট, নেপালরাজ্যের প্রধান সেনাপতি—স্বনামখাত, স্বৰ্গীয় স্তর জঙ্গ বাহাদুর কর্তৃক প্রদত্ত। অসংখ্য ভক্তকর্তৃক ভক্তি উপঙ্গররূপে প্রদত্ত, মায়ের অলঙ্কারগুলি এইরূপে ক্রমে ক্রমে আসিয়া জুটিয়াছে । ১৮৭৮ সালে, কালীর মন্দিরে একবার চুরী হয়। তজ্জন্ত কতক অলঙ্কার চুরী গিয়াছিল। কালীক্ষেত্র-দীপিকারের মতে—“এই সমস্ত অলঙ্কারাদি বহুতর ধনাঢ্য লোকের প্রদত্ত। অপর কেহ কোন উৎকৃষ্ট অলঙ্কারাদি প্রদান করিলে, পূর্ক্সেরটা খুলিয়া-নৃতনটা কালীদেবীকে পরাইয়া দেওয়া হয় এবং পূৰ্ব্বের অলঙ্কার যে সেবায়েতের যজমানের প্রদত্ত—তাহারই প্রাপা হয় ।” কালীর নিত্য পূজা—পূরাকালে কিরূপ ভাবে হুইত, তাহ জানিবার কোন উপায়ই নাই । যখন এই কালীমূৰ্ত্তি কাপালিক ও তান্ত্রিক-সন্ন্যাসীগণের হস্তে পতিত হয়, তখন তাহারা সম্ভবতঃ তামসিক নিয়মেই, কালীদেবীর পূজাদি করিত। এই ভীষণ সময়ে, তাহারা পশুবলি ও নরবলি দিয়া জগন্মাতার আরাধনা করিত—এরূপ জনশ্রুতি আছে । বর্তমান সেবায়েত ছালদারগণের পূর্ব-পুরুষ, ভবানীদাসের সময় পৰ্য্যন্ত, সেবায়েতগণ—স্বহস্তে দেবীর পূজাদি করিতেন। ভবানীদাস-বিষ্ণুমন্ত্রে দীক্ষিত ছিলেন। তিনি সাত্বিকভাবে নিরামিষ নৈবেদ্যাদি সহকারে, জপ ও হোমাদি দ্বারা কালীর নিতাপুজা সমাধা করিতেন। প্রাতাহিক ভোগের জন্য, তিনি ছাগবলি দিতেন না। কেবলমাত্র দুর্গোৎসবের নবমীর দিন, একটা মাত্র পশু-বলি দিতেন। কালীর বর্তমান অধিকারীদের মধ্যে, এখনও ভবানীদাস প্রবর্তিত এই পুরাতন নিয়ম চলিয়া আসিতেছে। এক্ষণে-সমাগত যাত্ৰীগণের প্রদত্ত, ছাগবলি ১৯