পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/২৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সপ্তম অধ্যায় ২২১ করিবার বিশেষ স্থবিধাকর স্থান ছিল । জাহাজের অধ্যক্ষ ষ্টাফোর্ড সাহেব, এদেশের ভাষা জানিতেন না। তবে তিনি শুনিয়াছিলেন যে গোবিন্দপুরের শেঠ-বসাকের কিছু কিছু ইংরাজী বুঝিতে পারেন । কাজেই ষ্টাফোর্ড গোবিন্দপুরে শেঠ-বসাকদের নিকট একজন লোক পঠাইয়া দিয়া অনুরোধ করেন—“আমাদের একজন দুবাসের বা দ্বিভাষির প্রয়োজন, তাহাকে ত্বরায় পঠাইয়া দিবেন।” শেঠ-বসাকেরা “দুবাস” কথাটার অর্থ ঠিক বুঝিতে পারেন নাই। তাহারা কথাটা ভাল করিয়া বুঝিতে না পারিয়া, সাহেবের একজন ধোপা চাহিয়াহেন, ইছাই সিদ্ধান্ত করিলেন। এই সিদ্ধাস্তানুসারে, রতন সরকার নামক একজন ধোপাকে, তাহায়া সাহেবদের জাহাজে পাঠাইয়া দেন। রতন একটু আধট ইংরাজী বুঝিত। সে কতকগুলি উপঢৌকন লইয়া, ভদ্রলোকের মত পোষাক পরিয়া, জাহাজের কাপ্তেনের সহিত দেখা করিল। রতন ধোপার সহিত ইংরাজীতে কথাবাৰ্ত্তায়, কাপ্তেন সাহেব বড়ই সন্তুষ্ট হইলেন । রজক, রতনই ইংরাজের প্রথম দ্বিভাষীর পদ লাভ করিলেন। } এক্ষণে আমরা এই হুগলী ফ্যাক্টারির অবস্থা ও কোম্পানীর তৎসামরিক কৰ্ম্মচারীদের সম্বন্ধে আরও দুই চারি কথা বলিব । আমরা এই সন্দর্তে আড়াইশত বৎসর পূর্বের ইংরাজদের কথা বলিতেছি, পাঠক যেন একখাটী মনে রাখেন। এখনকার সহিত তুলনায়,সেই সুদূরবর্তী সময়ে, আকাশ পাতাল গ্রভেদ ছিল। তখন মোগল এ দেশের অধিপতি। কোম্পানী বাহাদুর সামান্ত ব্যবসাদার ও প্রজামাত্র । র্তাহার। এদেশের নানাস্থানে বাণিজ্যাগার স্থাপন করিয়া, এদেশীয় উৎপন্ন দ্রব্য ক্রয় করেন ও ইউরোপের নানা বন্দরে চালান দেন । কিম্ব ইউরোপ হইতে মালামাল রপ্তানি করিয়া এদেশের বাজারে বেচিয়া লাভ করেন । এই বিরাট ব্যবসায়ের মালিক, বিলাতের ইষ্ট-ইণ্ডিয়া কোম্পানী । কোম্পানীর অংশীদারদের মধ্যে, বাছাই করিয়া একটী কোট অব ডিরেক্টর সভা বিলাতে সংগঠিত হইয়াছিল । তাহারাই ইতিহাসে "কোর্ট” নামে পরিচিত। বোম্বে, মান্দ্রাজ, সুরাট, বালেশ্বর ও বঙ্গদেশে পূর্বেই বলিয়াছি, এই মেটিয়াবুরুজে ও তাহার অপর পারে—জলদসু্যদের আগমন পথ রোধ করিবার জন্য, নবাব সায়েস্তা থা—দুইটী মাটির কেল্লা প্রস্তুত করেন । ইহা হইতেই মেটিয়া কিজ নামকরণ হইয়াছে ও সেই নাম এখনও চলিয়া আসিতেছে। 聽

  • অনেকে অনুমান করেন,—বৰ্ত্তমান মাখাঘষা গলির সন্নিকটবৰ্ত্তী যে রাস্তাটা Rutton Sarker's Garden street বলিয়া পরিচিত, তাহা এই রতনের নামে হইয়াছে এবং আজও মৃতনের নাম লোকের স্মতিপথে জাগরুক রাখিয়াছে।