পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৩৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বাদশ অধ্যায় । లిలిసి রুদ্ধ হইয়া, চার্ণককে কাশিমবাজারের কুঠার-অধ্যক্ষ পদ হইতে অপসারিত করেন এবং হুগলীর কুঠীর দ্বিতীয় সহকারী পদে নিয়োগাদেশ দেন। কিন্তু ষ্ট্রেনসাম মাষ্টারের এই ব্যবহারে, বিলাতের কৰ্ত্তার পর্য্যস্ত, তাহার উপর বিরক্ত হইয়াছিলেন। ষ্ট্রেনসাম মাষ্টার, শেষ নিজেই পদচ্যুত হন ও বিলাতের কৰ্বারা চার্ণককে কাশিমবাজারের কুঠীর অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত করেন। পাটনায় অবস্থানকালে, চাণকের জীবনে একটা অদ্ভূত ঘটনা ঘটে। কথাটা উপন্যাসের মত অনেকদিন হইতেই এদেশে চলিয়া আসিতেছে। কথাটা এই যে, চার্ণক এক হিন্দু-রমণীকে বিবাহ করিয়াছিলেন। ঘটনাটা কি আমরা সংক্ষেপে বলিব। ১৬৭৮ খৃঃ অব্দে চার্ণক পাটনায় ছিলেন । একদিন তিনি গঙ্গাতীরে ভ্রমণ করিতে করিতে, এক সতীদাহের দৃশ্য দেপিতে পান । সতীদাহ-প্রথা, বহুদিন হইতে ভারতের সর্বস্থানেই প্রচলিত ছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর, পত্নী স্বামীবিয়োগ-শোক অসহ জ্ঞানে, তাহার সম্ভিত জলন্ত চিতায় স্বেচ্ছায় সহমৃতা হইতেন । আমাদের বঙ্গদেশেও পুরাকালে এ প্রথার বড়ই বাহুল্য ছিল । * যাহারা স্বেচ্ছায় স্বামীর অনুগমন করিতে অস্বীকৃত হইত, তাহাদিগকে জোর করিয়া জলস্ত চিতায় দগ্ধ করা হইত । o চার্ণক, নদীতীরে ভ্রমণকালে দেখিলেন–জলন্ত অনলে আত্মসমর্পণে উদ্যতা, সেই হিন্দুরমণী পরম মুন্দরী । পূর্ণ যুবতী । চার্ণক তাহার প্রহরীগণের সাহায্যে, এই সহগমনোন্মুখ সতীকে উদ্ধার করিয়া, স্বগৃহে লইয়া আসেন ও তাঁহাকে পত্নীরূপে গ্রহণ করেন। এই রমণীর গর্ভে, চার্ণকের কয়েকট কন্যা সন্তান হয়। হিন্দু-রমণীর গর্ভজাত হইলেও, তাহীদের খ্ৰীষ্টানী ধরণে নামকরণ হয়। চাণকের এই তিন কন্যায় নাম—মেরী, ক্যাথারিন, এলিজাবেথ। তৎকালের তিনজন পদস্থ ইংরাজের সহিত এই তিন কন্সার বিবাহ হয়। চার্ণকের জামাতা ও কন্যাগণের নাম আমরা ইতিপূৰ্ব্বেই বলিয়াছি । চার্ণক এই হিন্দু পত্নীর সহিত বহুদিন সংসারযাত্রা নিৰ্ব্বাহ করেন। চার্ণক অতিশয় পত্নীবৎসল ছিলেন এবং চার্ণকের শক্রপক্ষীয়েরা বলেন, স্ত্রীকে খৃষ্টান ধৰ্ম্মে দীক্ষিত করা দূরে থাকুক, তাহার শক্তির অধীনে তিনিই অৰ্দ্ধপৌত্তলিক হইয়া পড়েন । এই স্ত্রীর মৃত্যু হইলে, চার্ণক তাহার দেহ, মুত ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর আমলে, ভারতের গবর্ণর জেনারেল লর্ড বেণ্টিঙ্ক কর্তৃক এই সতীদাহ প্রথা নিবারিত হয়।