পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৩৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বাদশ অধ্যায় । ర్సిసి হইয়া সরাসর চৌরঙ্গীর জঙ্গলের মধ্যে দিয়া, ভবানীপুর ভেদ করিয়া কালীঘাটে গিয়াছিল । * সাবর্ণগণের পারিবারিক কাহিনী হইতে আমরা জানিতে পারি, যে এই শ্যামরায় ঠাকুর, সেই পুরাকালের জঙ্গল-বেষ্টিত প্রাচীন কলিকাতার মধ্যে খুব নামজাদ বিগ্রহ ছিলেন। সাবর্ণ মহাশয়েরা, তখন খুব দানধ্যান করিতেন । এক চন্দ্রাতপের ( অপরার্থে ছত্র বা ছায়া-প্রদানকারী আবরণ) নিম্নে–র্তাহীদের ঠাকুরের ভোগ বিতরিত হইত। এই প্রসাদ লইবার জন্ত, দূরবর্তী স্থানসমূহ হইতে অনেক লোক আসিত । “ছত্র” বা "চন্দ্রতপের” নিয়ে এই “লুট” বা “প্রসাদ", বিতরণ করা হইত বলিয়, এইস্থান "ছত্ৰপুট" আখ্যা ধারণ করে। " এই ছত্রলুটের ক্রমশঃ অপভ্রংশ হইয়া, ইহা সুতানুটীতে দাড়াইয়াছে । ইহাই স্বতালুট নাম হুইবার সম্বন্ধে আর একটা প্রবাদ । আবার অন্স কিম্বদন্তী হইতে আমরা জানিতে পারি, যে অধস্তনকালে শেঠ-বাসকদের ভাট, এই স্থানেই স্থাপিত হয় এবং তথায় "সুতার লুটা” বিক্রয় হইত বলিয়া, ইহা মুতলুট" আখ্যা প্রাপ্ত হইয়াছে। ইহা শেঠ-বসাকদের উক্তি। ইংরাজদের পুরাতন সেরেস্তায় "ছত্ৰ-বুট” নাম কোথাও নাই—“মুতানুটা” আছে। ইষ্ট-ইণ্ডিয়া কোম্পানীর সেরেস্তায় একখানি পুরাতন Letter Book বা বিলাতী-চিঠির বহি ছিল । এখান হইতে যে সব চিঠিপত্র বিলাতে যাইত, তাহার নকল ইহাতে থাকিত । এখানি এখন বিলাতের ব্রিটিশ মিউজিয়মে অতি জীর্ণবস্থায় রক্ষিত। ইহাতে ১৭০০ খ, অন্ধের চিঠিপত্রের নকল আছে। সেই সমস্ত চিঠিপত্র “স্বতালুট” হইতে প্রেরিত হইয়াছে বলিয়া উল্লিখিত আছে। জব চাণকের কলিকাতা প্রতিষ্ঠার পর এবং এই ১৭০০ খ, অব্দের পূৰ্ব্বে--আর একখানি পুরাতন

  • A. K. Roy's—History of Calcutta.

+ "ছত্ৰ" "নছত্র” “হরিহরছত্র” “জলছত্র” প্রভৃতি তুলনা করিয়া দেখুন। এৰং হরিরলুটের অপভ্রংশ মেয়েলী কথা—"হরিরলুট” কথাটিও তুলনার সমালোচনা ভাবুন। ছত্র আবার অনেক স্থলে “সত্র” এই ভাবেও উচ্চারিত হয় । এই সমস্ত নামের গোলমাল সেকালের ইংরাজেরাই করিয়া গিয়াছেন । র্তাহার এদেশের ভাষা বুঝিতেন না-কাণে যে শব্দটা আসিত তাহাই ইংরাজী অক্ষরে লিপিবদ্ধ করিতেন। ইহার প্রত্যক্ষ প্রমাণ— সেকালের কাগজ পত্রে তাহার সায়েস্ত থাকে—Cha-esta-caw, সাজাহানকে— Chazahn, foss'infants—Mersy Momien of{so coin Mo Shosta Khan ইহাও করিয়া গিয়াছেন। এরূপ স্থলে পাঠকই বিচার করিয়া লইবেন—“ছত্রলুট” হইতে ইগলুটা কিম্বাস্থতার লুট হইতে স্বতালুট হওয়ায় কোনটি বিশেষ সম্ভবপর।