পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৪০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


OSున সেই সময় একদল নগদী-সেন, আবদুল ওয়াহেদ নামক একজন রেসালদারের অধীন ছিল। নগদীর-রাজকোষ হইতে নগদ বেতন পাইত । তাঙ্গদের জন্ত, কোনরূপ জায়গীর বন্দোবস্ত ছিল না। এই সময়ে, তাহাদের প্রাপ্য বেতন কিছু বাকী পড়ে। সুলতান আজিমওখান—এই সংবাদ অবগত হইয়া, তাহাদের সর্দার ওয়াহেদকে হস্তগত কারলেন। তিনি ওয়াহেদকে গোপনে উপদেশ দিলেন—“যে সময়ে নবাব রাজ-সভায় আসিবেন, সেই সময়ে বেতন প্রার্থনার অছিলায়, তোমরা পথিমধ্যে গোলরোগ বাধাইয়া, কোন সুযোগে তাহাকে হত্যা করিৰে। মুরশীদকুলি খাঁ, সম্ৰাট-পৌত্র অজিমওশ্বানকে যথেষ্ট সম্মান করিতেন। তিনি জানিতেন না যে তাহার বিরুদ্ধে এরূপ এক ঘৃণিত চক্রাস্তের স্বষ্টি হইয়াছে। নবাব মুরশীদকুলী খা যেখানেই যাইতেন, তাহার পরিচ্ছদের মধ্যে একটা বৰ্ম্ম পরিধান করিতেন। যুবরাজের উপর তাহার একান্ত বিশ্বাস ছিল না। আজিমওশ্বান যে র্তাহার উপর সন্তুষ্ট নহেন, তাহাও তিনি জানিতেন । একদিন মুরশীদকুলী খা দরবারে অসিবার জন্য, স্বদলবলে অশ্বারোহণে বাহির চুইয়াছেন, এমন সময়ে ওয়াহেদ তাহার সঙ্গীদের লইয়া বেতনের দাবি করিয়াঃ নবাবের সহিত বিবাদ উপস্থিত করে। মূরশীদকুলী খা, ইহাতে কোনরূপ ভয় না পাইয়া, সরাসর দরবারে উপস্থিত হন । আজিমওশ্বান যে, এই ষড়যন্ত্রের মূলে আছেন, ইহাই তাহার ধারণা। নবাব, দরবারে উপস্থিও হইয়া, পূৰ্ব্ব প্রথমতঃ আজিমওখানকে কোনরূপ সম্বৰ্দ্ধনা না করিয়া, তাহার নিকট উপবেশন করিয়া রুষ্টভাবে বলিলেন—”সাহজাদা ! যদি আপনি আমায় গুপ্তভাবে হত্যা করিতে স্থিরসংকল্প হইয়া থাকেন, তাহা হইলে জানিয়া রাখুন, আমিও প্রতিহিংসা লইতে বিরত থাকিব না। আর এ কথাও স্থির জানিবেন—আমায় হত্যা করিলে, বাদশাহও তাহার প্রতিশোধ না লইয়া ছাড়িবেন না। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, আবদুল ওয়াহেদকে এরূপভাবে উত্তেজিত করিবার মূলই আপনি ।” আজিমওখান, দেওয়ানের ক্রোধ দেখিয়া বড়ই তীত হইলেন। পিতামহ ঔরঙ্গজেবকে তিনি চিনিতেন । যে দেওয়ান, বাঙ্গলায় সম্রাটের দক্ষিণহস্তস্বরূপ, র্তাহার বঙ্গ-সাযুজ্যের রাজকোষের অায়বৃদ্ধির জন্ত, যাঙ্গাকে তিনি নিজে নিৰ্ব্বাচিত করিরা পাঠাইয়াছেন—তাহার প্রতি এরূপ অমামুদ্ধিক সত্যাচারের কথা—বাদসাহের কর্ণগোচর হইলে, তাহার পরিণাম শুভফলজনক নহে। এইজন্য তিনি বিবিধ উপায়ে, নৰাবের ক্ৰোধ-শ:াত্তির চেষ্টং 8 *