পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৪৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পঞ্চদশ অধ্যায় । 83(t তাহার আমলে বঙ্গদেশে কখনও দুর্ভিক্ষ উপস্থিত হয় নাই। দেশের শস্য-রক্ষা সম্বন্ধে, তিনি বিশেষ মনোযোগী ছিলেন। নবাব সায়েস্তা খার সহিত, এ বিষয়ে তাহার তুলনা করা যাইতে পারে। র্তাহার রাজস্ব বন্দোবস্তের গুণে, জমিরও যথেষ্ট উন্নতি হয় । অনেক পতিত-জমির আবাদ হওয়ায় প্রচুর শস্য উৎপাদিত হইত। জমিদারগণ প্রজার উপর অত্যাচার করিতে পারিতেন না। শস্যাদির মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধির দিকে, তাহার বিশেষ দৃষ্টি ছিল । কৰ্ম্মচারিগণ, মহাজনগণের নিকট হইতে কিম্বা বাজার বা গঞ্জ প্রভৃতি স্থান হইতে, শস্যাদির মূল্য-তালিক। সংগ্ৰহ কবিয়া, নবাব-দরবারে পেশ করিতেন। কখনও বা শস্যাদির একটা নির্দিষ্ট মূল্য নিৰ্দ্ধারিত করিয়া দেওয়া হইত। কোন ব্যবসায়ী যদি শস্ত্যাদির মূল্য বৃদ্ধি করিত, বা ভবিযাৎ লাভের আশায়, তাহা বিক্রয় না করিয়া সঞ্চয় করিয়া রাখিয়া দিত, আর নবাব সে কথা জানিতে পাপ্লিতেন, তাহ। হইলে সেই ব্যবসায়ীকে গদভপৃষ্ঠে আরোহণ কুরাইয়া, নগর পরিভ্রমণ করান হইত। নবাব মুরশীদকুলী খার-আমলে টাকায় পাঁচ ছয় মূ৭ চাউল পাওয়া যাইত। ** বাকী-খাজনার জন্স, জৰ্মীদারদিগকে অনেক সময়ে কারাবদ্ধ করা হইত—ব নজরবন্দী করিয়া মুরশীদাবাদে রথিা হইত। প্রথম নবাবী আমলের এই ব্যবস্থা, নবাব আলিযদি খাঁর আমল পৰ্য্যন্তও প্রচলিত ছিল । বড়িশার জমীদার সন্তোষরায়, নদীয়াধিপতি মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রও খাজনার দায়ে আবদ্ধ হইয়াছিলেন। কিন্তু এরূপ অবরোধকালে যে জমীদারদের উপর ভীষণ অত্যাচার করা হুইত, তাহার কোন মূলভিত্তি নাই। এ বিষয়ে সমসাময়িক মুসলমান ইতিবৃত্ত-লেখকেরাই মুরশীদকলীর চরিত্রে কলঙ্ককাঙ্গিম। নিক্ষেপ করিয়া গিয়াছেন । মুসলমান ইতিহাস-লেখকেরা বলেন—“নবাবী আমলে জমীদারের কেবল সোজা বাশ দেওয়া চৌপাল ব্যবহার করিতে পাইতেন। হিন্দু-জমীদার ও কৰ্ম্মচারীবর্গ, নবাবের সমক্ষে আসনে উপবেশন করিতে পারিতেন না। ক্ষুদ্র জমীদারদের, নবাব-দরবারে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ ছিল। নবাবের সমক্ষে পরস্পরকে কেই অভিবাদন করিতে পারিতেন না। তাহার পর বহুদিন হইতে একটা কথা প্রচলিত আছে—অক্ষম হিন্দু জমীদারদের নিকট জবরদস্তিতে খাজনা আদায়ের জন্য, নবাব “বৈকুণ্ঠের"-হৃষ্টি করিয়াছিলেন। এ বৈকুণ্ঠ যে কুি ব্যাপার, তাছা একটু পরে বলিতেছি। t * * জমীদারদের উপর অত্যাচার ব্যাপার সম্বন্ধে সমসাময়িক ইংরাজ ইতিহাস