পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৪৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


83w কলিকাতা সেকালের ও একালের । গ্রন্থকার বলেন, এই স্থান-নির্দেশ যে কতটা সত্য—তাহ ঠিক বলা যায়.না ! * . নৰাৰু, মুরশীদকুলী ধার আমলে, ছুইজন গুল-প্রতাপ জমীদার বিদ্রোহী* হইয়াছিলেন। রাজস্ব-আদায়ের জন্য, মুরশীদকুলী যে কঠোর ব্যবস্থা প্রচলন করেন, তাহার ফলেই এই বিদ্রোহ উপস্থিত হয়। ভূষণার জমীদার, রাজা সীতারাম রায় ও রাজসাহীর জমাদার রাজা উদয়নারায়ণ, নবাবের বিরুদ্ধে অভূখান করেন। যে সময়ে বঙ্গদেশে দ্বাদশ-ভৌমিকের আধিপত্য প্রবল, সেই সময়ে ভূষণা, মুকুন্দরাম রায়ের দখলে। মকুন্দরামের রাজ্যাবসানের পর, ভূষণায় একজন ফৌজদার নিযুক্ত হন । এই ভূষণ ফৌজদারীর মধ্য দিয়া, মধুমতী নদী প্রবাহিত। মধুমতী তীরে হরিহর-নগর নামক এক ক্ষুদ্রপল্লীতে, উত্তর-রাচিয় কায়স্থ, বিশ্বাস-বংশে সীতারামের জন্ম হয়। সীতারামের পিতার নাম উদয়নারায়ণ রায় । বিশ্বাস উপাধি, জাতিগত হইলেও উদয়নারায়ণ নবাব সরকার হইতে রায়’ উপাধি প্রাপ্ত হন। এই রায়গণের অধীনে কতকগুলি ক্ষুদ্র মৌজা ও তালুক ছিল। ইহাই সীতারামের পৈতৃক সম্পত্তি। চেষ্টা করিয়া সীতারাম, পাশ্ববৰ্ত্তী ভূভাগের রাজস্ব আদায়ের ভার প্রাপ্ত হন। ক্রমশঃ সীতারামের মনে, নিজের জমীদারী বৃদ্ধি করা ও সেই সঙ্গে একটা স্বাধীন হিন্দুরাজ্য স্থাপনের সংকল্প স্বধৃঢ় হইয় উঠে। ' এ সঙ্কল্প সিদ্ধির কতকগুলি অমুকুল কারণও উপস্থিত হইল। এই সময়ে বঙ্গদেশে শোভাসিংহের বিদ্রোহ উপস্থিত। তখন দুৰ্ব্বলচিত্ত নবাব ইব্রাহিম খণ, বাজালার সুবেদার । কুরউল্লা খা—যশোরের ফৌজদার । এই কুরউল্লা ও ইব্রাহিম খণর শাসন-শিথিলতার অবসরে, তীক্ষুবুদ্ধি বীরপ্রবর সীতারাম প্রভূত বলসঞ্চয় করেন। কেহই তাহার ক্ষমতায় বাধা-প্রদান করিতে সাহসী হন নাই বা মনোযোগ প্রদান করেন নাই। প্রকৃতি দেবী, সীতারামের সহায় হইলেন। চাক্‌লা ভূষণ নদীবহুল স্থান। চারিদিকে পদ্মার ক্ষুদ্র বৃহৎ শাখা-প্রশাখা এইস্থানকে অতি দুর্গম করিয়া তুলিয়াছিল। ইহার দক্ষিণে সুন্দরবনের দূর্তেদ্য জঙ্গল। কাজেই সীতারাম স্বাধীনতা লাভুর জন্ত, দীর্ঘকাল অবসর পাইয়াছিলেন । সেকালে দেশের লোকতলোয়ার, ঢাল, তীর ও লাঠি ব্যবহার করিতে স্বাক্ষ ছিল। সীতারাম এইরূপে লোক-সংগ্ৰহ করিয়া “ লাল গঠন করিলেন । বাদসাহ ও নবাবের সন্মতিক্রমে তিনি