পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৪৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


sss কলিকতা সেকালের ও একালের । খার অমিলে ও রোটেসান গবর্ণমেণ্টের সময়ে, বড়বাজারের দিকে দেশীয় অধিবাসীর সংখ্যা বড়ই বৃদ্ধি পাইয়াছিল। - দুইজন সমসাময়িক লেখক সেই প্রাচীন কলিকতার জন-সংখ্যা ও অধিবাসী সম্বন্ধে নানা বিবরণ লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন । ইহঁীদের প্রথম হামিলটান—দ্বিতীয় স্বনামখ্যাত হলওয়েল । এই হামিলটন একজন গুপ্ত ব্যবসায়ী। কাজেই কোম্পানীর কৰ্ম্মচারীদের উপর তিনি বড় একট। সন্তুষ্ট ছিলেন না । রোটেসান-গবর্ণমেণ্টের আমলে, কয়েক বৎসর ধরিয়া তিনি কলিকাতার ছিলেন। পরবর্তীকালে হলওয়েল-কলিকাতা, সুতালুটা ও গোবিন্দপুর এই গ্রীমত্রয়ের এবং পার্শ্ববৰ্ত্তী ৩৮ খানি গ্রামের জমাদার ছিলেন। কোম্পানীর আমলে, র্তাহীদের অধিকৃত বিবর-সম্পত্তি রক্ষণর ও সহরের স্ববন্দোবস্তের জন্য “জমীদার” বলিয়া একজন কৰ্ম্মচারী নিয়োজিত হইতেন । এই সাহেব-জমীদারের একজন আবার এদেশীয় সহকারী ছিল। তিনি “ব্লাক-জমীদার” বলিয়া উল্লিখিত হইতেন । কুমারটুলীর মিত্র-বংশের গোবিন্দরাম মিত্র মহাশয় কলিকাতার “ব্ল্যাক-জমীদার” ছিলেন। এই গোবিন্দরামের লাঠির ভয়ে, চোর-ডাকাতেরা থরহরি কঁাপিত। “গোবিন্দরামের ছড়ী বা লাঠি”, প্রাচীন কলিকাতার একটী নামজাদ জিনিস । পরে আমরা এই গোবিন্দরাম সম্বন্ধে অনেক কথা বলিব । হলওয়েল, পলাশীযুদ্ধের পূর্ব সময় পৰ্য্যস্ত, কলিকাতার লোক সংখ্যা ও আয়-ব্যয়ের কথা বলিয়া গিয়াছেন । হামিলটান ও সমসাময়িক । তিনি লিথিয়া গিয়াছেন, এই সময়ে কলিকাতার জন-সংখ্যা “দশ হইতে বার হাজার পর্য্যস্ত ছিল ।” তিনি কোন যৎসরের কথা বলিতেছেন, তাহার নির্দেশ না থাকিলেও, সম্ভবতঃ ১৭১৬ খৃঃ অন্ধে কলিকাতায় যে জরীপ হয়, তিনি তাহার উপর নির্ভর করিয়াই বোধ হর ঐ কথা বলিয়াছেন। হলওয়েল সাহেব, কলিকাতার একজন খুব নামজাদা কালেক্টার । তিনি কলিকাতার বাহ্যিক উন্নতি সম্বন্ধে, অনেক চেষ্টা করিয়াছিলেন ও কলিকাতার ভিতরের অবস্থারও অনেক খবর রাখিতেন। ১৭৫২ খৃঃ অব্দে তিনি কলিকাতায় একটী সার্ভে বা জরীপ করান। ইহার উপর নির্ভর করিয়া, তিনি বলিয়া গিয়াছেন,-“১৭৫২ খৃঃ অব্দে কলকাতার জনসংখ্যা রি লক্ষ নয় হাজার ছিল । তাহা ইলেই বুঝা যাইতেছে, হামিলটানের সময় হইতে ৪৬ কি ৪৭ বৎসরের মধ্যে কলিকাতার জন-সংখ্যা এইরূপ অসম্ভবভালে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইয়াছিল ।