পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৬১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উনবিংশ অধ্যায়। ¢ፃ¢ এই, কলিকাতা দুর্গমধ্যস্থ মালগুদামে তখনও অনেক টাকার মাল অনুষ্ঠিত অবস্থায় ছিল। ইহার কারণ এই, নবাবের ভয়ে কেহ ইহাতে হস্তক্ষেপ করিতে পারে নাই। “সিরাজ-উদ্দৌল্লা নিজে এইগুলি লইবেন” এই কথা শুনিয়া কেহ তাহা স্পর্শও করে নাই। নবাব সিরাজউদৌলা কর্তৃক কলিকাতা লুণ্ঠন সময়ে, চার্ণক প্রতিষ্ঠিত, ধীরে ধীরে নিৰ্ম্মিত, প্রাচীন কলিকাতার প্রায় একরূপ ধ্বংশসাধনই হইয়াছিল। নবাব মীরজাফরের প্রদত্ত ক্ষতিপূরণের টাকা পাইবার পর, অনেকে নূতন করিয়া ঘর বাড়ী করিতে আরম্ভ করে। ক্লাইভ ও ওয়াটুসন কলিকাতায় ইংরেজাধিকার পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করিলে—কলিকাতার পলায়িত অধিবাসীরা পুনরায় এই সহরে ফিরিয়া আসে। ১৭৫৭ সাল হইতে আবার নূতন ভাবে কলিকাত সহর নিৰ্ম্মিত হইতে আরম্ভ হয়। ধরিতে গেলে, এই সময় হইতে বর্তমান কলিকাতার দ্বিতীয়বার প্রাণপ্রতিষ্ঠা হইয়াছে। পলাশী-যুদ্ধের পর—কলিকাতা কিরূপ ছিল, এক্ষণে তৎসম্বন্ধে দুই চারিট কথা বলিব। কি করিয়া ক্লাইভ ও ওয়াটুসন কলিকাতা পুনরুদ্ধার করেন, তাহ বাঙ্গালী পাঠক মাৱেই জানেন। তাহার পর পলাশীক্ষেত্রে নবাব ও ইংরাজের ভাগ্য-পরীক্ষা হয়। পলাশীযুদ্ধে জয়ী হইয়া, লর্ড ক্লাইভ গৌরব-মুকুট-মণ্ডিত হন। ছৰ্ভাগ্য সিরাজউদৌলা, সিংহাসনচ্যুত হইয়া, মুরশীদাবাদ হইতে পলায়ন কালে পথিমধ্যে ধৃত হন। মীরজাফরের পুত্র মীরণের হস্তে, তাহার জীবলীলার অবসান হয়। এই পলাশীযুদ্ধ সম্বন্ধে যাহারা বিশদ বিবরণ জানিতে চাহেন, তাহারা সুপণ্ডিত প্রত্নতত্ত্ববিৎ হিলের সুবৃহৎ গ্রন্থগুলি পাঠ করিবেন। ব্লাক-হোল ঘটনার শোকাবহ স্মৃতি * পলাশীর রণাভিনয়ে প্রক্ষালিত

  • ব্লাকহোলের নৃশংস ব্যাপার প্রকৃতই ঘটিয়াছিল কিনা, ইহা হলওয়েলের স্বকপোল কল্পিত কাহিনী, কিনা, এই কথা লইয়া বাঙ্গালী ঐতিহাসিকগণ অনেক তর্ক বিতর্ক করিয়াছেন। কিন্তু সম্প্রতি মিঃ হিলের সুবৃহৎ গ্রন্থ প্রকাশিত হওয়ায়, এই ব্যাপারের একরূপ পূর্ণ মীমাংসা হইয়া গিয়াছে। যাহারা হিলের গ্রন্থ আদ্যোপাস্ত মনোযোগের সহিত পাঠ করিয়াছেন, তাহারা নিশ্চয়ই বিশ্বাস করিবেন, ব্লাকহোলের ব্যাপার আদৌ কল্পনা-প্রস্বত নহে। হলওয়েল নবাব সিরাজউদৌলাকে সম্পূর্ণরূপে এই নৃশংস ব্যাপারের জন্য কলঙ্ক মুক্ত করিয়া

গেলেও ঐতিহাসিকগণ তর্কের কলরব তুলিতে ছাড়েন নাই। নবাব ইহার জনা প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী ন হইতে পারেন, কিন্তু উপহার জমাদারগণের দোষেই এই ব্যাপার ঘটিয়াছিল। ব্লাকহোলের মৃত ব্যক্তিগণের দেহ পয়দিন প্রভাতে একটী খাতের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হয়। পরবর্তী কালে হলওয়েল—“ব্লাকহোলের” নৃশংস ব্যাপারের স্মৃতিরক্ষার জন্ত, এই খাত বুজাইরা একটা স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেন। সে স্মৃতিস্তস্তটা পরে ভাঙ্গিয় ফেলা হয়। আধুনিক কালে আমাদের ভূতপূৰ্ব্ব-রাজ প্রতিনিধি, প্রত্নতত্ত্ববিৎ লর্ড কর্জন বাহাদুর, হলওয়েলের স্মৃতিস্তম্ভের অধিকৃত