পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৬১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


C:\t- কলিকাতা সেকালের ও একালের । কলিকাতায় মহামারীর প্রাদুর্ভাৰ হয়। প্রথমবারের আক্রমণে অনেক ইংরাজ ইহলোক হইতে অপহৃত হইয়াছিল । ১৭৬২ অব্দের মহামারীতে প্রায় পঞ্চাশ হাজার বাঙ্গালী মৃত্যুমুখে পতিত হয়। ইঙ্গর আট বৎসর পরে, সমগ্ৰ ৰঙ্গদেশব্যাপী মহা দুর্ভিক্ষের স্বচনা হয় । দুর্ভিক্ষের সঙ্গে মহামারীও দেখা দেয় । “হিকিস-গেজেট” সেকালের একমাত্র ইংরাজী সংবাদপত্র । এই সংবাদপত্রের বৃত্তাস্ত হইতে দেখা যায়, কেবল কলিকাতা সহরেই ৭৬ হাজার লোক তিন মাসে মৃত্যুমুখে পতিত হইয়াছিল। মেকলে এ সম্বন্ধে যে বর্ণনা করিয়াছেন, তাহা বাস্তবিকই ভয়াবহ । কলিকাতার রাজপথ ও অলি গলিসমূহ মৃতদেহে পরিপূর্ণ। কোথাও বা মৃতদেহ সৎকারাভাবে পড়িয়া আছে—তাহা শকুনি-গৃধিনীর উদরস্থ হইতেছে, কোথাও বা মুমুম্বু-ব্যক্তি পথের ধারে পড়িয়া আৰ্ত্তনাদ করিতেছে। যাহারা পারিতেছে, তাহারা গঙ্গাতীরে বালুকার উপর মৃতদেহ ফেলিয়। রাখিয়া যাইতেছে। সৎকারের লোক নাই—সৎকার করে কে ? এই মড়কের সময় জুলাই হইতে সেপ্টেম্বরের মধ্যে, পনর শত সাহেব মৃত্যুমুখে পতিত হয় । কলিকাতা যে এই সময়ে ভয়ানক অস্বাস্থ্যকর স্থান হইয়াছিল—তাহা এই মড়কের আবির্ভাব হইতেই বিশেষরূপে প্রমাণিত হয় । নগরের মধ্যে নালানদাম ও ড়েনের স্ববন্দোবস্ত ছিল না। এই ক্ষুদ্র সহরের চারিদিক ব্যাপিয়া অস্বাস্থ্যকর জলাভূমি ও বনজঙ্গল । ধরিতে গেলে সহরের মধ্যে একমাত্র উন্মুক্ত পয়ঃপ্রণালী মারহাট্টাডিচ । তাহাও আবার সহরের চারিদিক ব্যাপিয়া নহে। ব্লাকহোলের রাশিরুত মৃতদেহ সঙ্গরের মধ্যবৰ্ত্তী এক গভীর খাদে সমাহিত হয়। এই গলিত দুৰ্গন্ধময় মৃত-দেহজাত বিষাক্ত বাষ্পও তৎসময়ে কলিকাতার স্বাস্থ্যহানির কারণস্বরূপ হইয়াছিল। মাগলেরিয়া তখন পূর্ণমূৰ্ত্তিতে বর্তমান। সহরের বহিরাংশে পূতিগন্ধময় ধাপ বা Salt water Lake. কাজেই কলিকাতায় ঐ প্রকার মড়ক আবির্ভাব সম্বন্ধে আশ্চৰ্য্য হুইবার কিছুই নাই । - ইংরাজ অধিবাসীদের মধ্যেও মৃত্যুসংখ্যার বিরাম ছিল না। সকালে ৰ মধ্যাহ্নে যে ইংরাজ তাহার বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে একত্রে খান খাইয়া গিয়াছেন, হয় ত পরদিন প্রাতে র্তাহার বন্ধুগণ সেই ব্যক্তির শবদেহ বহনের জন্ত আহুত হইলেন। নুতন সমাধিক্ষেত্র তখন হেষ্টিংস ষ্ট্ৰীট হইতে পার্ক ষ্ট্রীটে নিৰ্ম্মিত হইতেছে। সে সময়ে আজকালকার মত শবদেহ-বাহী শুকন্টের প্রচলন ছিল না । ইংরাজগণ তখন আমাদের মত কাধে করিয়া