পাতা:কলিকাতা সেকালের ও একালের.djvu/৬২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উনবিংশ অধ্যায় । &\,”) এইটুকু সম্বন্ধ-যে তাহাদের স্ত্রীলোকেরা আমাদের বাড়ীতে দাসীরূপে নিযুক্ত হয়, পুরুষেরা কেরাণীর কাজ অথবা পাচকের কার্য্য করে।” “মান্দ্রাজে নিম্নশ্রেণী দেশীয়দের জন্য যেমন একটী স্বতন্ত্ৰ ৰাসপল্লী নির্দিষ্ট আছে—কলিকাতায় সেরূপ নাই। কলিকাতায় অনেক নিম্নশ্রেণীর লোক সহরের ইংরাজ-পল্লীর নানাস্থানে বাস করিতেছে। ইহাদের বাড়ীম্বর গুলির মাটীর দেওয়াল ও তাহার উপর খড়ের ছাউনি। এই সকল খড়ের চাল এত ক্ষুদ্র, যে একজন লোক সিধা হইয়। ইহার মধ্যে প্রবেশ করিতে পারে না। ইহারা সন্ধ্যার পুৰ্ব্বে যখন আহারাদি প্রস্তুত করিবার জন্ত উনানে আগুণ দেয়, তখন কুটারগুলির পার্শ্বস্তু রাজপথ সমূহ, ধূমে মাচ্ছন্ন হইয় পড়ে। এই সময়ে দেশীয় পল্লীর রাজপথে পরিভ্রমণ করা অতি কষ্টকর ব্যাপার হইয়া পড়ে।” - - “কলিকাতার নূতন দুর্গ—যাহা গোবিন্দপুরে নিৰ্ম্মিত হইতেছে, তাহ। এক অদ্ভুত ব্যাপার। পুরাতন দুর্গ হইতে ইহা এক মাইল দক্ষিণে ও নদীর ধারে । ইহার সীমামধ্যে যে সমস্ত যাড়ীম্বর করিবার কল্পনা হইয়াছে, তাঙ্গ সম্পূর্ণ হইলে, এই দুর্গই একটী ক্ষুদ্র সহরের আকার ধারণ করিবে। ইগর মধ্যে কোম্পানীর রাইটারগণের জন্ত স্বতন্ত্র আবাসস্থান, সনাদের জন্ত ব্যারাকু, বারুদ ও তোপখানা, জেলখানা প্রভৃতি নিৰ্ম্মাণের ব্যবস্থা হইয়াছে।* - “পলাশী-যুদ্ধের পর ইংরাজগণ প্রকারাস্তরে দেশনায়ক হওয়াতে, তাহদর অধিকৃত বাঙ্গলার রাজধানী, কলিকাতা সহরের দিন দিন উন্নতি ইতেছে। নানাস্থান হইতে লোক আসিয়া, ইংরাজদের এই স্বরক্ষিত রে বাস করিতেছে। সাহেবী-কোয়ার্টারে, বাড়ী পাওয়াই দুর্ঘট। বলাতের মত চিত্রিত কাগজে গৃহের দেয়াল মুড়িবার ব্যবস্থা কলিকাতায় নাই। এখানে প্রচণ্ড গ্রীষ্ম ও উই প্রভৃতির জন্য এ সমস্ত কাগজমোড় দেয়াল বেশী দিন যায় না। সমস্ত গৃহের দেয়ালগুলি চূণকাম করা। বাণীর উপর চুণের পলস্থা দিয়া, গৃখের অভ্যস্তরস্থ দেয়ালগুলি নিৰ্ম্মিত হয়। ঘরের মেঝেও এইরূপ ভাবে চুণ সুরকীর মিশ্রণে পেট। ইহাতে বাড়ীগুলি দেখিতে মন্দ হয় না।”

  • মিসেস কিওসিলির বর্ণিত এই দুর্গই গড়-গোবিন্দপুরের বর্তমান কেল্লা। পলাশ যুদ্ধের পর ইহার নির্মাণ কাৰ্য আরম্ভ হয়। কিওসিলি ইহাকে নিতান্ত অসম্পূর্ণ অবস্থায় দেখিয়াই এইরূপ বর্ণনা করিয়া গিয়াছেন ।